بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে
আলিফ-লাম-মীম। ২. এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই কিতাব আল্লাহ-সচেতনদের পথপ্রদর্শক। ৩. আল্লাহ-সচেতনরা গায়েবে (মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞানে বোধগম্য না হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য বাস্তবতায়) বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে, প্রাপ্ত রিজিক থেকে অন্যের জন্যে ব্যয় করে (অর্থাৎ নিয়মিত দান করে)। ৪-৫. আর (হে নবী!) তোমার ও তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি যা নাজিল হয়েছে তা তারা বিশ্বাস করে। সেইসাথে বিশ্বাস করে আখেরাতে (প্রতিটি কাজের জবাবদিহিতায়)। তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত সঠিক পথের অনুসারী এবং তারাই সফলকাম।
الم ﴿١﴾ ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٢﴾ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ ﴿٣﴾ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ ﴿٤﴾ أُولَـٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٥﴾
৬. আর যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, (হে নবী!) তাদের তুমি যতই সতর্ক করো না কেন, তারা কখনো বিশ্বাস করবে না। ৭. আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন, কানকে করেছেন বধির আর চোখ ঢেকে দিয়েছেন পর্দায়। ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
[এখানে আল্লাহ একটি চিরায়ত সত্য প্রকাশ করেছেন, যা আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় : সত্য অনুসন্ধানে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করে কুসংস্কার, ভ্রান্ত বিশ্বাস ও অবিদ্যা দ্বারা ক্রমাগত প্রভাবিত হতে থাকলে মানুষের মস্তিষ্কের ওয়ার্কিং স্ট্রাকচার বা কর্মকাঠামো বদলে যায়। ফলে তার সত্যবাণী শোনার আগ্রহ ও সামর্থ্য দুই-ই হ্রাস পায়। ক্রমান্বয়ে অন্তর বিভ্রান্তির আস্তরে স্থায়ীভাবে আচ্ছাদিত হয়। এ মোহর লাগা ও কঠিন শাস্তি কোনো অলঙ্ঘনীয় নিয়তি নয়, বরং প্রাকৃতিক আইন অনুসারে ব্যক্তির স্বাধীন পছন্দ ও কর্মের পরিণতি। একইভাবে বিশ্বাস স্থাপন ও সৎকর্মের পুরস্কারও হচ্ছে ব্যক্তির সহজাত বিচারবুদ্ধির স্বাধীন ও সঠিক প্রয়োগের সুফল।]
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٦﴾خَتَمَ اللَّـهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿٧﴾
৮-১০. আবার কিছু মানুষ মুখে বলে, আমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী। কিন্তু ওরা আদৌ বিশ্বাসী নয়। ওরা আল্লাহ ও বিশ্বাসীদের ঠকাতে চায়। আসলে ওরা নিজেদেরই ঠকাচ্ছে, যদিও ওরা তা বোঝে না। ওদের অন্তর রোগগ্রস্ত কলুষিত আর আল্লাহ ওদের এই রোগ ক্রমান্বয়ে জটিল হতে দেন। ক্রমাগত মিথ্যাচার (ও ভণ্ডামির) পরিণামে ওদের জন্যেও অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّـهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ ﴿٨﴾ يُخَادِعُونَ اللَّـهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ ﴿٩﴾ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّـهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ ﴿١٠﴾
১১-১৩. ওদের যখন বলা হয়, ‘পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি কোরো না’, ওরা বলে, ‘আমরাই তো শান্তি বজায় রাখছি।’ সাবধান! ওরাই অশান্তি সৃষ্টিকারী। কিন্তু ওরা তা বোঝে না। যখন ওদের বলা হয়, ‘সত্যিকার বিশ্বাসীদের মতো তোমরাও বিশ্বাসী হও’, তখন ওরা বলে, ‘আমরা কি নির্বোধদের মতো বিশ্বাস স্থাপন করব?’ সাবধান! আসলে ওরাই নির্বোধ। কিন্তু ওরা তা বোঝে না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ ﴿١١﴾ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ ﴿١٢﴾ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ ۗ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَـٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ ﴿١٣﴾
১৪. বিশ্বাসীদের কাছে এলে এই বিভ্রান্তরা বলে, ‘আমরা তো (তোমাদের মতোই) বিশ্বাসী।’ আবার যখন দুরাচারীদের কাছে যায় তখন বলে, ‘আসলে আমরা তো তোমাদের সাথেই রয়েছি। বিশ্বাসীদের সাথে আমরা তো শুধু তামাশা করি।’
وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ ﴿١٤﴾
১৫-১৬. আল্লাহ ওদের তামাশার প্রতিফল দেবেন। তিনি কিছু সময়ের জন্যে ছাড় দিয়ে রেখেছেন, যাতে ওরা ওদের অহমিকা, অবাধ্যতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে ঘুরপাক খেতে পারে। ওরা নিজেরাই হেদায়েতের সহজসরল পথের বিনিময়ে বিভ্রান্তির পথ বেছে নিয়েছে। এই বিনিময় ওদের জন্যে লাভজনক হয় নি। বরং ওরা বিভ্রান্তির বৃত্তে আটকে গেছে। ওরা আসলেই পথ হারিয়েছে।
اللَّـهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ ﴿١٥﴾ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ ﴿١٦﴾
১৭-১৮. ওদের উপমা হচ্ছে এমন জনতার, যারা আগুন জ্বালাল। আগুনে চারপাশ আলোকিত হওয়ার পরই আল্লাহ সে আলো সরিয়ে নিলেন। ওরা ঘোর অন্ধকারে ডুবে গেল। অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখার থাকল না। ওরা বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং ওরা আঁধারেই ঘুরপাক খাবে। আলোয় ফিরে আসতে পারবে না।
مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّـهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَّا يُبْصِرُونَ ﴿١٧﴾ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ ﴿١٨﴾
১৯-২০. অথবা ওদের উপমা হচ্ছে এমন যে, ঘোর অন্ধকারে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে; এর সাথে বজ্রের গর্জন আর বিদ্যুতের চমক। বজ্রের গর্জনে মৃত্যুভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওরা কানে আঙুল দিয়ে রাখে। আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের এক বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছেন। বিদ্যুতের ঝলকানিতে ওদের দৃষ্টিশক্তি আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আবার বিদ্যুতের আলোয় যখন হঠাৎ সামনের কিছুটা দেখতে পায়, তখন ওরা এগোতে থাকে। আবার যখন ঘোর অন্ধকার চারপাশ ছেয়ে ফেলে, তখন ওরা থমকে দাঁড়ায়। আল্লাহ ইচ্ছে করলে ওদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি কেড়ে নিতে পারতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ ۚ وَاللَّـهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ ﴿١٩﴾ يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ ۖ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّـهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٠﴾
২১. হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্বসূরিদের সৃষ্টি করেছেন। তাহলেই তোমরা নিজেকে (সকল বিপর্যয় থেকে) রক্ষা করতে পারবে। ২২. আল্লাহই জমিনকে তোমাদের জন্যে বিছানার মতো বিছিয়ে দিয়েছেন আর আকাশকে করেছেন চাঁদোয়া। তোমাদের জীবিকার জন্যে তিনি মেঘমালা থেকে পানিবর্ষণ করে ফলমূল ও ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনেশুনে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক কোরো না।
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٢١﴾ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّـهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٢﴾
২৩-২৪. আমি আমার বান্দার প্রতি ধাপে ধাপে যা নাজিল করেছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে এর মতো একটিমাত্র সূরা রচনা করো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সব সাহায্যকারীকে ডাকো। যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তাহলে একটি সূরা এনে দেখাও। আর যদি তা না পারো এবং তা তোমরা কখনোই পারবে না, তাহলে সচেতন হও জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّـهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴿٢٣﴾ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ ﴿٢٤﴾
২৫. আর হে নবী! যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল তাদের সুসংবাদ দাও জান্নাতের, যার পাদদেশে থাকবে প্রবহমান ঝর্নাধারা। সেখানে যখন তাদের ফলফলাদি খেতে দেয়া হবে, তখন তারা আনন্দে বলবে, ‘হাঁ, দুনিয়ায় আমরা এ ধরনের ফলই খেতাম।’ সেখানে তাদের সাথে থাকবে পবিত্র সাথিরা এবং সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।
وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هَـٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٥﴾
২৬. (সত্য বোঝাতে) আল্লাহ মশা বা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কোনোকিছুর উদাহরণ দিতে সংকোচ করেন না। কারণ বিশ্বাসীরা জানে, এই সত্য উদাহরণ তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এসেছে। আর সত্য অস্বীকারকারীরা প্রশ্ন করে, আল্লাহ কী উদ্দেশ্যে এমন উপমা দিয়েছেন? এভাবে (দৃষ্টিভঙ্গির কারণে) একই উদাহরণে অনেকে পথভ্রষ্ট হয় আর অনেকে সত্যপথে পরিচালিত হয়। অবশ্য ফাসেক বা সত্য পরিত্যাগকারী ছাড়া কাউকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট হতে দেন না। ২৭. আসলে যারাই আল্লাহর সাথে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে, আল্লাহ যে সম্পর্ক বহাল রাখার আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং দুনিয়ায় অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, নিঃসন্দেহে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
إِنَّ اللَّـهَ لَا يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّـهُ بِهَـٰذَا مَثَلًا ۘ يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ ﴿٢٦﴾ الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّـهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّـهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿٢٧﴾
২৮. তোমরা কীভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করো? তোমরা নিষ্প্রাণ ছিলে, তিনিই তোমাদের প্রাণ দিয়েছেন। এরপর তিনি তোমাদের প্রাণ হরণ করবেন আবার তিনিই তোমাদের পুনরুত্থিত করবেন। আর শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে।
كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّـهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٨﴾
২৯. তিনি জমিনের সবকিছু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। আর তিনি তাঁর সৃজনশীলতা প্রয়োগ করেন মহাকাশে। তিনি মহাকাশকে বিন্যস্ত করেন সাত স্তরে। বস্তুত শুধু তিনিই সব বিষয়ে সবকিছু জানেন।
هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٩﴾
৩০. স্মরণ করো! যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’, তখন তারা বলল, ‘আপনি কি এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও খুনখারাবি করবে? আমরা তো সর্বদাই আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণায় নিমগ্ন।’ আল্লাহ জবাবে বললেন, ‘আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।’ ৩১. আর তিনি আদমকে সবকিছুর নাম শিক্ষা দিলেন (অর্থাৎ সকল বিষয়ের জ্ঞান দান করলেন)। এরপর এক এক করে সবকিছু ফেরেশতাদের সামনে হাজির করে বললেন, ‘তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ ৩২. তারা বলল, ‘আপনি মহাপবিত্র। আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন, তার বাইরে আমরা কিছুই জানি না। আপনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।’
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٣٠﴾ وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَـٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴿٣١﴾ قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ ﴿٣٢﴾
৩৩. তিনি বললেন, হে আদম! তাদেরকে এগুলোর নাম বলে দাও। তখন আদম সবকিছুর নাম বলে দিল। এরপর আল্লাহ ফেরেশতাদের বললেন, আমি কি তোমাদের বলি নি, মহাবিশ্বের সবকিছুর অন্তর্নিহিত বাস্তবতা শুধু আমিই জানি এবং তোমরা যা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো তা-ও আমার জানা? ৩৪. এরপর আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সেজদা করো। তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সেজদা করল। ইবলিস অহংকারবশত আমার আদেশ অমান্য করল। ফলে সে সত্য অস্বীকারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো।
قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٣٣﴾ وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ ﴿٣٤﴾
৩৫. আমি বললাম, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস করো। সবকিছু ইচ্ছেমতো খাও। শুধু ঐ গাছের কাছে যেও না। যদি যাও, তবে তোমরা জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ ৩৬. কিন্তু শয়তান তাদের উভয়কেই প্রলুব্ধ করল। পরিণামে জান্নাত থেকে তারা বহিষ্কৃত হলো। আমি বললাম, ‘(ইবলিস ও) তোমরা একে অন্যের শত্রুরূপে দুনিয়ায় যাও। কিছুকালের জন্যে তোমরা সেখানেই জীবনযাপন করবে।’
وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَـٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ ﴿٣٥﴾ فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ ﴿٣٦﴾
৩৭. এরপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু (দিক-নির্দেশনামূলক) বাণী পেল। (গভীর অনুশোচনায়) সে তওবা করল। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু। ৩৮-৩৯. যদিও আমি বলেছিলাম, তোমরা সবাই এখান থেকে দুনিয়ায় যাও। তারপরও তোমাদের মঙ্গলের জন্যে আমি অবশ্যই (যুগে যুগে) সত্যপথের দিক-নির্দেশনা প্রেরণ করব। তখন যারা এই দিক-নির্দেশনা অর্থাৎ নৈতিক বিধিবিধান অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। আর যারা এই সত্যপথের নৈতিক বিধিবিধানকে প্রত্যাখ্যান করবে, তারাই জাহান্নামের আগুনে পুড়বে। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।
فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿٣٧﴾ قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٣٨﴾ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٣٩﴾
৪০-৪১. হে বনি ইসরাইল! আমার দেয়া নেয়ামতের কথা স্মরণ করো এবং আমাকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করো। তাহলে আমিও আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর তোমরা আমার অবাধ্যতার ব্যাপারে সতর্ক থেকো। তোমাদের কাছে যে কিতাব রয়েছে, তার সত্যায়ন হিসেবে আমি এখন যে কিতাব নাজিল করেছি, তা বিশ্বাস করো। তোমরাই এই কিতাবের প্রথম প্রত্যাখ্যানকারী হয়ো না। আর পার্থিব ক্ষুদ্র লাভের জন্যে আমার আয়াত বিক্রি কোরো না। তোমরা আল্লাহ-সচেতন হও। ৪২. তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিও না। জেনেশুনে সত্য গোপন কোরো না। ৪৩. তোমরা নামাজ কায়েম করো, অন্যের কল্যাণে ব্যয় করো এবং প্রার্থনাকারীদের সাথে প্রার্থনায় অবনত হও। ৪৪. তোমরা অন্যকে সৎ কাজ করতে বলো আর নিজেরা তা পালন করতে ভুলে যাও! অথচ তোমরা আল্লাহর কিতাব পাঠ করো। তোমরা কি তোমাদের সহজাত বিচারবুদ্ধিও প্রয়োগ করবে না?
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ ﴿٤٠﴾ وَآمِنُوا بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ ۖ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ ﴿٤١﴾ وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٤٢﴾ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ ﴿٤٣﴾ أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٤٤﴾
৪৫-৪৬. তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই বিনয়াবনতরা ছাড়া অন্যদের জন্যে নামাজ কঠিন কাজ। অবশ্য যারা বিশ্বাস করে যে, জবাবদিহিতার জন্যে তাদেরকে মহান প্রতিপালকের মুখোমুখি হতে হবে এবং তাঁর কাছেই তারা ফিরে যাবে, তারাই বিনয়াবনত হতে পারে।
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ ﴿٤٥﴾ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿٤٦﴾
৪৭. হে বনি ইসরাইল! আমার সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো! যা দিয়ে আমি তোমাদের অনুগৃহীত করেছিলাম এবং দুনিয়ায় অন্যদের চেয়ে তোমাদেরকে বেশি আনুকূল্য প্রদর্শন করেছিলাম। ৪৮. আর তোমরা সেই দিন সম্পর্কে সচেতন হও, যেদিন কোনো মানুষ কারো কোনো কাজে আসবে না, কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোনো মুক্তিপণ নেয়া হবে না এবং কেউ অন্যের কোনোরকম সাহায্যও পাবে না।
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٤٧﴾ وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿٤٨﴾
৪৯. আর স্মরণ করো! যখন আমি ফেরাউনের দাসত্ব থেকে তোমাদের রেহাই দিয়েছিলাম, যারা তোমাদের ছেলেদের খুন করত আর মেয়েদের বাঁচিয়ে রাখত। এ ছিল তোমাদের প্রতিপালকের তরফ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। ৫০. (স্মরণ করো!) যখন তোমাদের জন্যে সাগরকে দ্বিধাবিভক্ত করেছিলাম, তোমাদেরকে নিরাপদে পার করেছিলাম আর তোমাদের চোখের সামনে ফেরাউনকে দলবলসহ সাগরে ডুবিয়েছিলাম। ৫১-৫২. এরপর আমি মুসার জন্যে (তুর পাহাড়ে অবস্থানকাল) ৪০ রাত নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু মুসা তুর পাহাড়ে যাওয়ার পর তোমরা একটা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে মারাত্মক সীমালঙ্ঘন করেছিলে। তারপরও আমি তোমাদের ক্ষমা করেছি, যাতে তোমরা শোকরগোজার হও।
وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ ۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ ﴿٤٩﴾ وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ﴿٥٠﴾ وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَىٰ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ ﴿٥١﴾ ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٢﴾
৫৩. আর স্মরণ করো! আমি মুসাকে সত্য-মিথ্যার মানদণ্ডরূপে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে তোমরা সৎপথে চলতে পারো। ৫৪. আর মুসা যখন নিজের সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে তোমরা নিজেদের ওপর মারাত্মক জুলুম করেছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং নিজেদের কলুষিত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করো। (আল্লাহর দৃষ্টিতে এটি হবে উত্তম কাজ।) তাহলে আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করবেন। তিনি অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿٥٣﴾ وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُم بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَىٰ بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿٥٤﴾
৫৫. আর যখন তোমরা বলেছিলে, ‘হে মুসা! আমরা আল্লাহকে সরাসরি না দেখা পর্যন্ত তোমাকে কখনো বিশ্বাস করব না।’ তখন অকস্মাৎ বজ্রাঘাতে তোমরা নিষ্প্রাণ হয়ে গেলে। ৫৬. সেই মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে আমি তোমাদের পুনরুজ্জীবিত করলাম, যাতে তোমরা শোকরগোজার হতে পারো।
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَىٰ لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّىٰ نَرَى اللَّـهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ ﴿٥٥﴾ ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿٥٦﴾
৫৭. আমি তোমাদের ওপর মেঘের ছায়া বিস্তার করলাম এবং তোমাদের জন্যে ‘মান্না ও সালওয়া’ পাঠালাম। বললাম, তোমাদেরকে যে উত্তম রিজিক দিয়েছি, তা থেকে তৃপ্তিসহকারে পানাহার করো। বস্তুত তোমাদের পূর্বপুরুষরা (পাপাচারে লিপ্ত হয়ে) আমার কোনো ক্ষতি করতে পারে নি। তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে।
وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ۖ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ﴿٥٧﴾
৬০. স্মরণ করো! যখন মুসা তার সম্প্রদায়ের জন্যে পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।’ তারপর সেখানে ১২টি ঝর্নাধারা প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানির স্থান চিনে নিল। আমি বললাম, ‘আল্লাহর দেয়া রিজিক থেকে তোমরা পানাহার করো আর পৃথিবীতে অনাচার ও অশান্তি সৃষ্টি কোরো না।’
وَإِذِ اسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا وَاشْرَبُوا مِن رِّزْقِ اللَّـهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ ﴿٦٠﴾
৬১. (স্মরণ করো!) তোমরা যখন বলেছিলে, ‘হে মুসা! দিনের পর দিন একই খাবার খেতে খেতে আমরা ক্লান্ত। তাই তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করো, তিনি যেন আমাদের জন্যে জমিন থেকে শাকসবজি, শশা, গম, ডাল ও পেঁয়াজ উৎপন্ন করেন।’ মুসা বলল, ‘তোমরা কি ভালোর বদলে খারাপ জিনিস নিতে চাও? তাহলে সেই লাঞ্ছনার রাজত্বে ফিরে যাও! তোমরা যা চাচ্ছ সব সেখানে পাবে!’ শেষ পর্যন্ত ওরা লাঞ্ছনা অপমান ও দুর্দশায় পতিত হলো। আটকে গেল আল্লাহর গজবের বৃত্তে। কারণ এ ছিল ওদের অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘনের পরিণতি। ওরা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করেছে। নবীদের অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে।
وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَىٰ لَن نَّصْبِرَ عَلَىٰ طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنبِتُ الْأَرْضُ مِن بَقْلِهَا وَقِثَّائِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا ۖ قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَىٰ بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ ۚ اهْبِطُوا مِصْرًا فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ ۗ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَاءُوا بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّـهِ ۗ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُوا يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّـهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ۗ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٦١﴾
৬২. নিশ্চয়ই মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান ও সাবেয়ীদের মধ্যে যারাই আল্লাহ ও মহাবিচার দিবসে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের সবার জন্যেই প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالنَّصَارَىٰ وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٦٢﴾
৬৩. স্মরণ করো! যখন তুর পাহাড়কে ওপরে তুলে ধরে তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করে বলেছিলাম, আমি যে কিতাব দিলাম তা শক্ত করে ধরো আর এর মধ্যে যে বিধিবিধান আছে তা মনে রেখো, যাতে তোমরা আল্লাহ-সচেতন হয়ে চলতে পারো।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿٦٣﴾
৬৪-৬৬. এরপরও তোমরা (সত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নিলে! তোমাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতে। তোমরা ভালোভাবেই জানো, তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারের সীমা লঙ্ঘন করেছিল, আমি তাদের বলেছিলাম, ধিক্কৃত বানর হও! (অর্থাৎ এমন অধঃপাতে যাও যাতে চারদিক থেকে ধিক্কার বর্ষিত হয়।) এই ঘটনা তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্যে দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে উপদেশস্বরূপ।
ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۖ فَلَوْلَا فَضْلُ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ ﴿٦٤﴾ وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ ﴿٦٥﴾ فَجَعَلْنَاهَا نَكَالًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ ﴿٦٦﴾
৬৭. স্মরণ করো! যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গরু জবাই করার হুকুম দিয়েছেন।’ তারা বলেছিল, ‘তুমি কি আমাদের সাথে ঠাট্টা করছ?’ মুসা বলেছিল, ‘মূর্খদের মতো কথা বলা থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।’
وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّـهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تَذْبَحُوا بَقَرَةً ۖ قَالُوا أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا ۖ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّـهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ ﴿٦٧﴾
৬৮. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বলো, গরুটি কেমন হবে?’ মুসা বলল, ‘আল্লাহ বলেছেন, এ এমন একটি গাভী যা বুড়োও নয়, বাছুরও নয়—মাঝবয়সী। অতএব তোমরা যে আদেশ পেয়েছ, তা পালন করো।’ ৬৯. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানাতে বলো, গাভীর রং কী হবে?’ মুসা বলল, ‘সেটি হবে হলুদ রঙের। এর উজ্জ্বল গাঢ় রং দেখে দর্শক খুশি হবে।’ ৭০. তারা বলল, ‘তোমার প্রতিপালককে আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে বলো, সেটা কী ধরনের গাভী? আমরা গাভীটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছি। আল্লাহ চাইলে নিশ্চয়ই আমরা পথ পাব।’
قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ ۚ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا فَارِضٌ وَلَا بِكْرٌ عَوَانٌ بَيْنَ ذَٰلِكَ ۖ فَافْعَلُوا مَا تُؤْمَرُونَ ﴿٦٨﴾ قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا ۚ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاءُ فَاقِعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ ﴿٦٩﴾قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ إِنَّ الْبَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّا إِن شَاءَ اللَّـهُ لَمُهْتَدُونَ ﴿٧٠﴾
৭১. মুসা বলল, তিনি বলেছেন, ‘এ এমন এক গাভী যা জমি চাষে বা ক্ষেতে পানি সেচের কাজে লাগানো হয় নি, সম্পূর্ণ নিখুঁত ও সুস্থ।’ তারা বলল, ‘এখন তুমি ঠিক তথ্য এনেছ।’ যদিও তারা এত সুন্দর গাভী জবাই করতে প্রস্তুত ছিল না, তবুও তারা জবাই করল।
قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لَّا ذَلُولٌ تُثِيرُ الْأَرْضَ وَلَا تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لَّا شِيَةَ فِيهَا ۚ قَالُوا الْآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ ۚ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ ﴿٧١﴾
৭২. স্মরণ করো! যখন তোমরা একজন মানুষকে খুন করে একে অন্যের ওপর দোষারোপ করছিলে এবং তোমরা বিষয়টি গোপন রাখতে চাইলেও আল্লাহ তা প্রকাশ করলেন। ৭৩. তখন আমি বললাম, ‘গরুর একটি অংশ দিয়ে মৃতকে আঘাত করো।’ এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন আর তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শন দেখান, যেন তোমরা বুঝতে শেখো।
وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا ۖ وَاللَّـهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ ﴿٧٢﴾ فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا ۚ كَذَٰلِكَ يُحْيِي اللَّـهُ الْمَوْتَىٰ وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٧٣﴾
৭৪. কিন্তু এমন নিদর্শন দেখার পরও তোমাদের অন্তর পাষাণ বা পাষাণের চেয়েও কঠিন হয়ে গেল। কোনো কোনো পাথর থেকে তো ঝর্না বা নালা প্রবাহিত হয়, কতক পাথর ফেটে গেলে তার ভেতর থেকে পানি বেরিয়ে আসে। আবার কিছু পাথর আছে, যা আল্লাহর কথা মনে করে হতবিহ্বল হয়ে ধসে পড়ে। তোমরা যা-ই করো আল্লাহ সে-বিষয়ে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল।
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّن بَعْدِ ذَٰلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً ۚ وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاءُ ۚ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللَّـهِ ۗ وَمَا اللَّـهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٧٤﴾
৭৫-৭৭. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা দেখতে পাচ্ছ, আল্লাহর বাণী শুনে এবং ভালো করে বোঝার পরও একে বিকৃত করা ওদের একটি দলের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এরপরও কি তোমরা আশা করো, ওরা তোমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করবে? যখন ওরা বিশ্বাসীদের কাছে আসে তখন ওরা বলে, ‘আমরাও বিশ্বাস করি’। আবার যখন তারা নিজেদের মধ্যে নির্জনে মিলিত হয়, তখন ওরা বলে, আল্লাহ যা শুধু তোমাদের কাছে বলেছেন, তোমরা কেন তা বিশ্বাসীদের সামনে বলে ফেলো? এ কথাগুলোকেই তো তারা প্রতিপালকের সামনে তোমাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে। তোমরা কি নির্বোধ—তোমরা কি বোঝো না? ওরা কি তাহলে জানে না যে, ওরা যা গোপন রাখতে চায় বা প্রকাশ করে সবই আল্লাহ জানেন?
أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّـهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِن بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿٧٥﴾ وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَا بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ قَالُوا أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ اللَّـهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَاجُّوكُم بِهِ عِندَ رَبِّكُمْ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ ﴿٧٦﴾أَوَلَا يَعْلَمُونَ أَنَّ اللَّـهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ﴿٧٧﴾
৭৮. ওদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক রয়েছে, আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে যাদের কোনো জ্ঞান নেই। প্রচলিত সংস্কার, অমূলক প্রত্যাশা ও ভ্রান্ত বিশ্বাসই ওদের সম্বল। ৭৯. দুর্ভোগ তাদের জন্যে, যারা নিজেরা কিছু রচনা করে এবং ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্যে বলে, ‘এই বিধিবিধান আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে।’ তাদের হাত যা রচনা করেছে তা হবে তাদের সর্বনাশের কারণ, আর এর বিনিময়ে তারা যা অর্জন করেছে তা হবে তাদের ধ্বংসের উপকরণ।
وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لَا يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلَّا أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ ﴿٧٨﴾ فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَـٰذَا مِنْ عِندِ اللَّـهِ لِيَشْتَرُوا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۖ فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا يَكْسِبُونَ ﴿٧٩﴾
৮০-৮১. ওরা বলে, হাতে-গোনা কয়েকদিন ছাড়া জাহান্নামের আগুন কখনো আমাদের স্পর্শ করবে না। ওদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি পেয়েছ? কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না। অথবা তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে, না বুঝেই এমন কথা বলছ? যারা অন্যায় করে, পাপ যাদের ঘিরে রাখে তারা চিরকাল জাহান্নামের আগুনেই পুড়বে। ৮২. আর যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল তারাই জান্নাতে বাস করবে—সেখানে থাকবে চিরকাল।
وَقَالُوا لَن تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَّعْدُودَةً ۚ قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ اللَّـهِ عَهْدًا فَلَن يُخْلِفَ اللَّـهُ عَهْدَهُ ۖ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّـهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ ﴿٨٠﴾ بَلَىٰ مَن كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيئَتُهُ فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٨١﴾ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٨٢﴾
৮৩. স্মরণ করো! যখন বনি ইসরাইলের কাছ থেকে আমি অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন, এতিম ও অসহায়দের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। সবার সাথে সদাচরণ করবে আর নামাজ কায়েম করবে ও যাকাত আদায় করবে। কিন্তু অল্প কয়েকজন ছাড়া সবাই অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছিলে।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّـهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَذِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنكُمْ وَأَنتُم مُّعْرِضُونَ ﴿٨٣﴾
৮৪. স্মরণ করো! যখন বনি ইসরাইলের কাছ থেকে আরো অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা একে অন্যের রক্তপাত করবে না এবং আপনজনকে দেশছাড়া করবে না। তখন তোমরা তা স্বীকার করে নিয়েছিলে আর তোমরাই এর সাক্ষী।
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لَا تَسْفِكُونَ دِمَاءَكُمْ وَلَا تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ ﴿٨٤﴾
৮৫. তারপরও তোমরা একে অন্যকে খুন করেছ, তোমাদের একদলকে আরেক দল দেশছাড়া করেছ, তোমাদেরই একদল অন্যদলের ওপর অন্যায় ও জুলুমে জালেমদের মদদ দিয়েছ। আবার তারাই বন্দিরূপে তোমাদের সামনে হাজির হলে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের মুক্ত করেছ। অথচ তাদের দেশছাড়া করাটাই তোমাদের জন্যে অবৈধ ছিল। তবে কি তোমরা আল্লাহর বিধিবিধানের কিছু অংশ বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করো? তোমাদের মধ্যে যারাই এমন কাজ করবে, তারা প্রতিফল হিসেবে পার্থিব জীবনে পাবে লাঞ্ছনা ও অপমান। আর মহাবিচার দিবসে তো তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন শাস্তি। তোমরা যা করো আল্লাহ সবই জানেন।
ثُمَّ أَنتُمْ هَـٰؤُلَاءِ تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقًا مِّنكُم مِّن دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِم بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِن يَأْتُوكُمْ أُسَارَىٰ تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ ۚ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ ۚ فَمَا جَزَاءُ مَن يَفْعَلُ ذَٰلِكَ مِنكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَىٰ أَشَدِّ الْعَذَابِ ۗ وَمَا اللَّـهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿٨٥﴾
৮৬. যারাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনকে বেছে নেবে, তাদের যন্ত্রণা ও শাস্তি কখনো লাঘব হবে না। আর তারা কোনো সাহায্যও পাবে না।
أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۖ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿٨٦﴾
৮৭. নিশ্চয়ই আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছি। তারপর একের পর এক রসুল পাঠিয়েছি। শেষে মরিয়মপুত্র ঈসাকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং পবিত্র আত্মা (জিবরাইলের) মাধ্যমে তার শক্তি বৃদ্ধি করেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও যখনই কোনো রসুলের কাছে নাজিল হওয়া বিধিবিধান তোমাদের পছন্দ হয় নি, তখনই আত্মগর্বী হয়ে তোমরা তাকে অস্বীকার করেছ, আর কাউকে খুন করেছ। (তোমাদের এই আচরণ একেবারেই অবাঞ্ছিত।)
وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِن بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ ۖ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ۗ أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ ﴿٨٧﴾
৮৮. ওরা বলে, ‘আমাদের অন্তর ইতোমধ্যেই জ্ঞানে টইটম্বুর হয়ে আছে।’ কিন্তু সত্য অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ ওদের লানত (অর্থাৎ তাঁর রহমত থেকে চিরতরে বঞ্চিত) করেছেন। (আসলে আত্মম্ভরিতার বাইরে) ওরা খুব সামান্যই বিশ্বাস করে। ৮৯. এখন ওদের নিজস্ব কিতাবের সমর্থনে আল্লাহর কাছ থেকে নতুন কিতাব এসেছে, কিন্তু ওরা সব জেনেবুঝে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অথচ ইতঃপূর্বে ওরা নিজেরাই সত্য অস্বীকারকারীদের মোকাবেলায় বিজয় ও সাহায্য লাভের জন্যে এ কিতাবের উল্লেখ করে প্রার্থনা করত। সুতরাং সত্য অস্বীকারকারীদের ওপর আল্লাহর লানত।
وَقَالُوا قُلُوبُنَا غُلْفٌ ۚ بَل لَّعَنَهُمُ اللَّـهُ بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلًا مَّا يُؤْمِنُونَ ﴿٨٨﴾وَلَمَّا جَاءَهُمْ كِتَابٌ مِّنْ عِندِ اللَّـهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُوا مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جَاءَهُم مَّا عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ ۚ فَلَعْنَةُ اللَّـهِ عَلَى الْكَافِرِينَ ﴿٨٩﴾
৯০. আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সেই কিতাবকে ওরা এই ঈর্ষায় প্রত্যাখ্যান করেছে যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে (ওদের বদলে) অন্যকে এই অনুগ্রহে অনুগৃহীত করেছেন। এ ঈর্ষা ও আত্মগর্ব কত না খারাপ যা ওদের আত্মাকে কলুষিত করেছে! ফলে ওরা গজবের পর গজবে বিপর্যস্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে নির্দিষ্ট রয়েছে অত্যন্ত লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
بِئْسَمَا اشْتَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُوا بِمَا أَنزَلَ اللَّـهُ بَغْيًا أَن يُنَزِّلَ اللَّـهُ مِن فَضْلِهِ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۖ فَبَاءُوا بِغَضَبٍ عَلَىٰ غَضَبٍ ۚ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ ﴿٩٠﴾
৯১. যখন ওদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, তাতে বিশ্বাস করো’, তখন ওরা বলে, ‘আমাদের ওপর যা নাজিল হয়েছে আমরা শুধু তাতেই বিশ্বাস করি’। এ-ছাড়া আর সবকিছুই ওরা প্রত্যাখ্যান করে, যদিও তা সত্য এবং ওদের কিতাবের সমর্থক। (হে নবী!) জিজ্ঞেস করো, ‘যদি তোমরা তোমাদের কিতাবের প্রতি সত্যিকার বিশ্বাসীই হবে, তবে কেন অতীতে রসুলদের খুন করেছিলে?’
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا بِمَا أَنزَلَ اللَّـهُ قَالُوا نُؤْمِنُ بِمَا أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرُونَ بِمَا وَرَاءَهُ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَهُمْ ۗ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنبِيَاءَ اللَّـهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٩١﴾
৯২. (হে বনি ইসরাইল!) নিশ্চয়ই মুসা তোমাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণসহ এসেছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার সাময়িক অনুপস্থিতিতে তোমরা একটি বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে। তোমরা নিঃসন্দেহে সীমালঙ্ঘনকারী।
وَلَقَدْ جَاءَكُم مُّوسَىٰ بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ ﴿٩٢﴾
৯৩. স্মরণ করো! যখন তোমরা আমার কাছে অঙ্গীকার করেছিলে এবং তুর পাহাড়কে তোমাদের ওপরে তুলেছিলাম, তখন বলেছিলাম, আমি যে বিধিবিধান দিচ্ছি তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং দৃঢ়তার সাথে সে অনুসারে কাজ করো। ওরা বলেছিল, আমরা শুনলাম কিন্তু অমান্য করলাম। সত্য অস্বীকার করার কারণে ওদের অন্তরে বাছুরপ্রীতি সৃষ্টি হয়েছিল। (হে নবী!) বলো, যদি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাকো, তবে তোমাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের নির্দেশিত কাজ কতই না নিকৃষ্ট!
وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاسْمَعُوا ۖ قَالُوا سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ ۚ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُم بِهِ إِيمَانُكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٩٣﴾
৯৪. (হে নবী!) বলো, ‘আল্লাহ অন্যদের বাদ দিয়ে জান্নাত শুধু তোমাদের জন্যেই নির্ধারিত রেখেছেন, তোমাদের এ দাবি যদি সত্য হয়ে থাকে তবে তো মৃত্যুকে তোমাদের স্বাগত জানানো উচিত।’ ৯৫. কিন্তু না, কখনোই ওরা মৃত্যুকামনা করবে না, কারণ ওরা জানে পৃথিবীতে ওরা কী কাজ করেছে। আর আল্লাহ জালেমদের সবকিছুই জানেন। ৯৬. সব মানুষের চেয়ে, এমনকি শরিককারীদের চেয়েও দীর্ঘজীবনের প্রতি আসক্ত হিসেবেই (হে নবী!) তুমি ওদেরকে দেখতে পাবে। ওরা সবাই হাজার বছর বাঁচতে চায়। কিন্তু দীর্ঘায়ু ওদেরকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। ওরা যা-ই করে আল্লাহ সে-সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল।
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِندَ اللَّـهِ خَالِصَةً مِّن دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴿٩٤﴾ وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ۗ وَاللَّـهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴿٩٥﴾ وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَىٰ حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا ۚ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ ۗ وَاللَّـهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ ﴿٩٦﴾
৯৭. হে নবী! বলো, জিবরাইলের প্রতি যে শত্রুতা পোষণ করে তার জানা উচিত, জিবরাইল আল্লাহর নির্দেশে তোমার হৃদয়ে কোরআন পৌঁছে দিয়েছে, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা স্বীকার করে, যা সত্য-বিশ্বাসীদের পথপ্রদর্শক ও সাফল্যের সুসংবাদ বহনকারী। ৯৮. যারা আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর রসুলদের এবং জিবরাইল ও মিকাইলের শত্রু, তারা জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ স্বয়ং সেই সত্য অস্বীকারকারীদের বিপক্ষে।
قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَىٰ قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّـهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ ﴿٩٧﴾ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللَّـهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ ﴿٩٨﴾
৯৯. নিশ্চয়ই আমি তোমার প্রতি বহু সুস্পষ্ট আয়াত নাজিল করেছি। সত্যত্যাগী ছাড়া কেউই এগুলো অস্বীকার করবে না। ১০০. তবে যখনই ওরা কোনো ওয়াদা করেছে, তখনই ওদের কোনো না কোনো দল সে ওয়াদা ভঙ্গ করেছে। আসলে ওদের অধিকাংশই সত্য-বিশ্বাসী নয়। ১০১. যখন আল্লাহর কাছ থেকে কোনো রসুল এসে ওদের কিতাবের সত্যতা সমর্থন করে, তখন পূর্বতন কিতাবিদের একটি দল আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে পেছনে লুকিয়ে ফেলে যেন ওরা কিছুই জানে না।
وَلَقَدْ أَنزَلْنَا إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ ۖ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلَّا الْفَاسِقُونَ ﴿٩٩﴾ أَوَكُلَّمَا عَاهَدُوا عَهْدًا نَّبَذَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُم ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿١٠٠﴾ وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللَّـهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّـهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ ﴿١٠١﴾
১০২. (আল্লাহর কিতাবের পরিবর্তে) ওরা অনুসরণ শুরু করল শয়তানি চর্চার, যে চর্চা সোলায়মানের রাজত্বকালে সত্যত্যাগীরা করেছে। অথচ সোলায়মান কখনো সত্যত্যাগ করে নি। কিন্তু শয়তানরা সত্যত্যাগ করেছিল। ওরা মানুষকে জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। ওরা জাদুবিদ্যা শিখেছিল ব্যাবিলনে হারুত ও মারুতের কাছ থেকে। হারুত ও মারুত কাউকে শিক্ষা দেয়ার আগে বলত, ‘দেখ, আমরা হচ্ছি তোমাদের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ। তোমরা সত্যত্যাগ কোরো না।’ এ দুজনের কাছ থেকে ওরা এমন জাদু শিখল, যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যায়। অবশ্য তা প্রয়োগ করে ওরা কারো কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। জাদু শিখে আসলে ওরা নিজেদেরই ক্ষতি করেছে, যা ওদের কোনো উপকারে আসে নি। ওরা নিশ্চিতভাবেই জানত, এ পথে গেলে পরকালে কোনো কল্যাণ নেই। হায়! যদি ওরা জানত কত নিকৃষ্ট জিনিসের বিনিময়ে ওরা ওদের আত্মাকে বিক্রি করেছে! ১০৩. অথচ সত্য বিশ্বাস করলে এবং আল্লাহ-সচেতন হলে নিশ্চয়ই ওরা আল্লাহর কাছে উত্তম পুরস্কার পেত। হায়! যদি ওরা এ সত্যকে বুঝত!
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّـهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿١٠٢﴾ وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ اللَّـهِ خَيْرٌ ۖ لَّوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ ﴿١٠٣﴾
১০৪. হে বিশ্বাসীগণ! রসুলকে লক্ষ করে ‘রায়িনা’ বোলো না, ‘উনজুরনা’ বলো এবং রসুলের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো। (জেনে রাখো) সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। ১০৫. কিতাবিদের মধ্যে যারা সত্য অস্বীকারকারী এবং শরিককারী তারা চায় না যে, প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ (আয়াত) নাজিল হোক। অথচ আল্লাহ যাকে চান তাকেই নিজের বিশেষ অনুগ্রহের পাত্র হিসেবে মনোনীত করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহদাতা।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٠٤﴾ مَّا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا الْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍ مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَاللَّـهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّـهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ ﴿١٠٥﴾
১০৬. আমি (পূর্ববর্তী কিতাবের) কোনো আয়াত রহিত করলে বা ভুলে যেতে দিলে তার সমতুল্য বা তার চেয়ে উত্তম আয়াত পেশ করি। তুমি কি জানো না, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান? ১০৭. তুমি কি জানো না, মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো রক্ষাকারী বা সাহায্যকারী নেই?
مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا ۗ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٠٦﴾ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّـهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّـهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٠٧﴾
১০৮. হে বিশ্বাসীগণ! পূর্বে মুসাকে তার সম্প্রদায় যেভাবে প্রশ্ন করত, তোমরা কি তোমাদের রসুলকে সেভাবে প্রশ্ন করতে চাও? (মনে রেখো) বিশ্বাস স্থাপন করার পরিবর্তে যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে, নিঃসন্দেহে তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। ১০৯. সুস্পষ্টভাবে সত্য সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরও স্বার্থপরতা ও ঈর্ষার কারণে কিতাবিদের মধ্যে অনেকেই তোমাদেরকে বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত করে সত্য অস্বীকারকারীরূপে ফিরে পেতে চায়। তোমরা ওদের ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করো, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْأَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ ﴿١٠٨﴾ وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ ۖ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّـهُ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٠٩﴾
১১০. (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং যাকাত আদায় করো। পরকালীন মুক্তির জন্যে তোমরা যতটুকু সৎকর্ম করবে, তার সবটাই আল্লাহর কাছে জমা থাকবে। আল্লাহ তোমাদের সব কাজেরই দ্রষ্টা।
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّـهِ ۗ إِنَّ اللَّـهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿١١٠﴾
১১১-১১২. ওরা বলে, ‘ইহুদি বা খ্রিষ্টান ছাড়া অন্য কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ এটি ওদের মিথ্যা প্রত্যাশা। বলো, ‘তোমরা সত্যবাদী হলে এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করো।’ আসল সত্য হচ্ছে, তোমাদের মধ্যে যারাই আল্লাহতে পুরোপুরি সমর্পিত হবে এবং সৎকর্ম করবে, প্রতিপালক অবশ্যই তাদের যথাযথ পুরস্কার দেবেন। তাদের কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না।
وَقَالُوا لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ﴿١١١﴾ بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّـهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿١١٢﴾
১১৩. ইহুদিরা বলে, ‘খ্রিষ্টানদের বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই’, খ্রিষ্টানরা বলে, ‘ইহুদিদের বিশ্বাসের কোনো সত্যতা নেই’। অথচ উভয় সম্প্রদায়ই কিতাব পড়ে। আবার যাদের কিতাবের কোনো জ্ঞান নেই তারাও অনুরূপ দাবি করে। সুতরাং (এ নিয়ে কোনো বিতর্কের প্রয়োজন নেই) শেষবিচারের দিন আল্লাহ এই মতবিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসা করবেন।
وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَىٰ عَلَىٰ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَاللَّـهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ﴿١١٣﴾
১১৪. আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে যে ব্যক্তি বাধা দেয় এবং তা ধ্বংস করার চেষ্টা করে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? অথচ মসজিদে বিনয়াবনত চিত্তে প্রবেশ করা উচিত। পৃথিবীতে ওদের জন্যে রয়েছে চরম লাঞ্ছনা এবং পরকালে অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّـهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ ﴿١١٤﴾
১১৫. পূর্ব-পশ্চিম সবই আল্লাহর। তুমি যেদিকেই মুখ করো, সেদিকেই আল্লাহকে পাবে। আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এবং সর্বজ্ঞ।
وَلِلَّـهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿١١٥﴾
১১৬. ওরা বলে, ‘আল্লাহ সন্তান নিয়েছেন’। (তিনি একথার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত) তিনি মহাপবিত্র, মহামহিম! আসলে মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই আল্লাহর। সবকিছুই তাঁর একান্ত অনুগত। ১১৭. আল্লাহ মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা। যখনই কিছু করতে চান, তিনি শুধু বলেন ‘হও’, তখনই তা হয়ে যায়।
وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّـهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ ﴿١١٦﴾ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ ﴿١١٧﴾
১১৮. মূর্খরা বলে, আল্লাহ আমাদের সাথে কথা বলেন না কেন? অথবা আমাদের নিকট কোনো অলৌকিক নিদর্শন আসে না কেন? ওদের পূর্বসূরিরাও ওদের মতো এভাবেই বলত। (অতীত বা বর্তমান) সকল পথভ্রষ্টের অন্তর একইরকম। (বাস্তবতা হচ্ছে) বিশ্বাসী হৃদয়ের সামনে আমার নিদর্শনসমূহ উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট।
وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا اللَّـهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ۘ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ ۗ قَدْ بَيَّنَّا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿١١٨﴾
১১৯. হে রসুল! আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি। জাহান্নাম যাদের ঠিকানা, তাদের ব্যাপারে তোমাকে কখনোই কোনো প্রশ্ন করা হবে না। ১২০. ওদের মতাদর্শ অনুসরণ না করা পর্যন্ত ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা কখনোই তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না। ওদের বলো, আল্লাহর পথনির্দেশই প্রকৃত পথনির্দেশ। সত্যজ্ঞান লাভের পর তুমি যদি ওদের ভ্রান্ত ধ্যানধারণা অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহর হাত থেকে কেউ তোমাকে রক্ষা করতে পারবে না, তোমার কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। ১২১. আমি যাদের কিতাব দিয়েছি, তাদের মধ্যে যারা তা যথাযথভাবে পাঠ ও অনুসরণ করে তারাই সত্যিকারের বিশ্বাসী। আর যারা এ সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে তারা আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত।
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا ۖ وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ ﴿١١٩﴾وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّـهِ هُوَ الْهُدَىٰ ۗ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ اللَّـهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ ﴿١٢٠﴾ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَـٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ ﴿١٢١﴾
১২২. হে বনি ইসরাইল! স্মরণ করো! তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামতসমূহ। স্মরণ করো! কতভাবে আমি অন্যান্য জাতির চেয়ে তোমাদেরকে বেশি আনুকূল্য প্রদর্শন করেছিলাম। ১২৩. আর সেদিন সম্পর্কে সতর্ক হও, যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না, কারো কাছ থেকে মুক্তিপণ নেয়া হবে না, কারো কোনো সুপারিশও কাজে লাগবে না, আর কারো কাছ থেকে সাহায্যও পাবে না।
يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿١٢٢﴾ وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ ﴿١٢٣﴾
১২৪. স্মরণ করো! ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কিছু বিষয়ে পরীক্ষা নিয়েছিলেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা মনোনীত করেছি।’ সে বলল, ‘আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও কি নেতা হবে?’ আল্লাহ বললেন, ‘আমার প্রতিশ্রুতি জালেমদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’
وَإِذِ ابْتَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ ﴿١٢٤﴾
১২৫. সে-সময়ের কথা স্মরণ করো! যখন আমি কাবাঘরকে মানবজাতির সর্বকালের মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল করেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ‘তোমরা মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো।’ আমি ইব্রাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করি, তোমরা তাওয়াফকারী, আত্মনিমগ্ন ধ্যানী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্যে আমার ঘরকে পবিত্র রাখবে।
وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ۖ وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ ﴿١٢٥﴾
১২৬. স্মরণ করো! ইব্রাহিমের প্রার্থনা : ‘হে আমার প্রতিপালক! এই শহরকে সবার জন্যে নিরাপদ করো। আর এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাস করবে, তাদের ফলাহারসহ জীবিকা প্রদান করো।’ আল্লাহ বললেন, তবে যারা সত্যকে অস্বীকার করবে তাদেরকেও কিছুকাল জীবন উপভোগ করার সুযোগ দেবো। তারপর ওদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করব। আর এ পরিণতি কতই না নিকৃষ্ট!
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَىٰ عَذَابِ النَّارِ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ ﴿١٢٦﴾
১২৭-১২৯. যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবাঘরের দেয়াল তুলছিল তখন তারা দোয়া করেছিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের এ-কাজ কবুল করো! নিশ্চয়ই তুমি সব শোনো, সব জানো। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পুরোপুরি তোমাতে সমর্পিত করো এবং আমাদের বংশধর হতে এমন একটি জাতির উত্থান ঘটাও যারা তোমাতে পুরোপুরি সমর্পিত হবে। আমাদেরকে ইবাদতের নিয়মপদ্ধতি শিখিয়ে দাও! আমাদের দোষত্রুটি ক্ষমা করো। নিশ্চয়ই তুমি অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! এ জাতির মধ্য থেকে তাদের কাছে এমন এক রসুল প্রেরণ করো, যে তোমার আয়াত পাঠ করবে, তাদেরকে কিতাবের জ্ঞান ও হিকমা শিক্ষা দেবে এবং তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করবে। নিশ্চয়ই তুমি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٢٧﴾ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿١٢٨﴾ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ﴿١٢٩﴾
১৩০-১৩১. আহাম্মক ছাড়া ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ থেকে কে মুখ ফেরাবে? পৃথিবীতে আমি তাকে নেতা মনোনীত করেছি। আর আখেরাতেও সে হবে সৎকর্মশীল ন্যায়পরায়ণদের একজন। তার প্রতিপালক যখন তাকে বলেছিলেন, ‘সমর্পিত হও’, সাথে সাথে সে বলেছিল, ‘বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের কাছে আমি নিজেকে সমর্পণ করলাম।’
وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُ ۚ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ ﴿١٣٠﴾ إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ ۖ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ﴿١٣١﴾
১৩২. আর ইব্রাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের নির্দেশ দিয়েছিল, ‘হে আমার সন্তানেরা! আল্লাহ তোমাদের জন্যে এ সত্যধর্ম মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা আল্লাহতে পুরোপুরি সমর্পিত না হয়ে মারা যেও না।’
وَوَصَّىٰ بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّـهَ اصْطَفَىٰ لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ ﴿١٣٢﴾
১৩৩. (হে বনি ইসরাইল!) অন্য কেউ নয় বরং তোমরাই তো সাক্ষী যে, ইয়াকুব মৃত্যুশয্যায় তার সন্তানদের জিজ্ঞেস করেছিল, আমার মৃত্যুর পর তোমরা কার উপাসনা করবে? তারা একবাক্যে বলেছিল, আমরা সেই এক আল্লাহরই ইবাদত করব, যিনি আপনার ও আপনার পূর্বপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাকের আল্লাহ। তিনিই একমাত্র উপাস্য এবং আমরা তাঁর কাছেই সমর্পিত।
أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَـٰهَكَ وَإِلَـٰهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَـٰهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٣﴾
১৩৪. (হে বনি ইসরাইল!) এরা ছিল অতীতের উম্মত। তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের আর তোমরা যা অর্জন করবে তার ফল তোমাদেরকে ভোগ করতে হবে। তাদের (সৎকর্মের) কারণে তোমাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। [এখানে আল্লাহ তাঁর চিরায়ত বিধানের কথা বলেছেন। পূর্বসূরিদের সৎ বা অসৎকর্মের ফল পরকালে অন্যের ওপর বর্তাবে না।]
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٣٤﴾
১৩৫. তারা বলে, ইহুদি বা খ্রিষ্টান হও, সঠিক পথ পাবে। বলো, কখনো নয়! আমরা বরং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করব। ইব্রাহিম ছিল যথার্থ সত্যের অনুসারী। সে কখনো শরিককারী ছিল না। ১৩৬. (হে বিশ্বাসীরা!) তোমরা বলো, ‘আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করি। আর যা আমাদের ওপর এবং ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের ওপর নাজিল হয়েছে তাতে বিশ্বাস করি, সেইসাথে যা মুসা, ঈসা ও অন্যান্য রসুলকে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে, সবকিছুই আমরা বিশ্বাস করি। আমরা রসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই সমর্পিত।’
وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ تَهْتَدُوا ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ ﴿١٣٥﴾ قُولُوا آمَنَّا بِاللَّـهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ ﴿١٣٦﴾
১৩৭. ওরাও যদি তোমাদের মতোই বিশ্বাস করে, তবে নিশ্চয়ই ওরা হেদায়েতের সরলপথ পাবে। আর যদি ওরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বুঝতে হবে ওরা অবশ্যই কঠিন গোঁড়ামি ও ভ্রান্তিতে ডুবে আছে। ওদের মোকাবেলায় তোমাদের সাহায্যের জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি সব শোনেন, সব জানেন।
فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّـهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿١٣٧﴾
১৩৮. (হে নবী! বলো, আমাদের জীবন) আল্লাহর রং-এ রঙিন। আল্লাহ ছাড়া (জীবনকে) এত সুন্দর রং আর কে দিতে পারে? আমরা শুধু তাঁরই ইবাদত করি।
صِبْغَةَ اللَّـهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّـهِ صِبْغَةً ۖ وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ ﴿١٣٨﴾
১৩৯. ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বলো, তোমরা কি আল্লাহকে নিয়ে আমাদের সাথে তর্ক করতে চাও? শোনো, তিনি আমাদেরও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক! আমাদের কাজের হিসাব আমাদের দিতে হবে আর তোমাদের কাজের হিসাব তোমরা দেবে। আমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদত করি। ১৪০. তোমরা কি দাবি করো যে, ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরেরা ইহুদি বা খ্রিষ্টান ছিল? তাদের জিজ্ঞেস করো, ‘কে বেশি জানে? তোমরা, না আল্লাহ?’ আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়া প্রমাণ যে গোপন করে, তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে? আল্লাহ তোমাদের প্রতিটি কাজ সম্পর্কে জানেন।
قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّـهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ ﴿١٣٩﴾ أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّـهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللَّـهِ ۗ وَمَا اللَّـهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٠﴾
১৪১. তারা অতীতের উম্মত। তাদের অর্জন তাদের জন্যে আর তোমরা যা অর্জন করবে, তার ফল তোমাদেরই ভোগ করতে হবে। তাদের সৎকর্মের কারণে তোমাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴿١٤١﴾
১৪২. নির্বোধরা তোমাদের সম্পর্কে বলবে যে, তারা এ পর্যন্ত যে কেবলা অনুসরণ করছিল, তা থেকে তারা কেন অন্যদিকে মুখ ফেরাল? হে নবী! বলো, পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহর। আর যে চায়, আল্লাহ তাকে সাফল্যের সরলপথে পরিচালিত করেন।
سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّـهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ ﴿١٤٢﴾
১৪৩. আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে সমগ্র মানবজাতির সামনে তোমাদের জীবন হবে সত্যের উদাহরণ আর তোমাদের সামনে রসুল হবে সত্যের প্রতীক। তুমি এ পর্যন্ত যে কেবলা অনুসরণ করছিলে তা এজন্যে চালু রেখেছিলাম, যাতে প্রকাশ্যে বোঝা যায়, কে রসুলকে অনুসরণ করছে আর কে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। (সত্যান্বেষণের কারণে) আল্লাহ যাদের সৎপথে পরিচালিত করেছেন, তারা ছাড়া অন্যদের জন্যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া খুবই কঠিন। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের বিশ্বাসকে ব্যর্থ হতে দেবেন না। মানুষের প্রতি আল্লাহ পরম মমতাময়, অতিদয়ালু।
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّـهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّـهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿١٤٣﴾
১৪৪. (দিক-নির্দেশনা পাওয়ার আশায়) ওপরের দিকে তোমার বার বার তাকানো আমি অবশ্যই লক্ষ করেছি। এখন তোমার মুখ সেই কেবলার দিকে ফিরিয়ে দিচ্ছি যা তোমার আশা পূরণ করবে। সুতরাং তুমি মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও। এরপর তুমি যেখানেই থাকো না কেন, কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়বে। আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তারা নিশ্চিতভাবেই জানে যে, এটি তাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে আগত সত্য। তাদের সব কাজ সম্পর্কেই আল্লাহ জানেন।
قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّـهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ ﴿١٤٤﴾
১৪৫-১৪৭. যারা কিতাবের অনুসারী বলে দাবি করে, তাদের নিকট তুমি যত দলিলই পেশ করো না কেন, তারা তোমার কেবলার অনুসরণ করবে না। তুমিও তাদের কেবলার অনুসারী হতে পারো না। ওদের কেউই একে অপরের কেবলার অনুসরণ করতে প্রস্তুত নয়। সত্যজ্ঞান পাওয়ার পরও তুমি যদি ওদের খেয়ালখুশিকে গুরুত্ব দাও, তাহলে তুমিও সীমালঙ্ঘন করবে। আমি ইতঃপূর্বে যাদের কিতাব দিয়েছি তারা রসুলকে এমনভাবে চেনে, যেমন চেনে তাদের সন্তানদের। তারপরও ওদের একটি দল জেনেশুনে এ সত্য গোপন করে। অথচ এ সত্য নাজিল হয়েছে তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে। তাই তোমরা কোনো ধরনের সন্দেহকে প্রশ্রয় দিও না।
وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ ۚ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ إِنَّكَ إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ ﴿١٤٥﴾الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ ﴿١٤٦﴾ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿١٤٧﴾
১৪৮. প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য আছে; যা তার কর্মধারাকে পরিচালনা করে। অতএব তোমরা সৎকর্মে (নিজের সাথে) প্রতিযোগিতা করো। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ اللَّـهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿١٤٨﴾
১৪৯. যেখান থেকেই তুমি বের হও না কেন, নামাজের সময় মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাও। নিশ্চয়ই এ তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ। তোমরা যা-ই করো আল্লাহ তা জানেন। ১৫০. যেখান থেকেই যাত্রা করো না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরাবে। আর যেখানেই থাকো না কেন, নামাজের সময় মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করে দাঁড়াবে। যাতে করে অহেতুক কোনো বিতর্কে জড়াতে না হয়। অবশ্য জালেমদের মুখ কখনো বন্ধ হবে না। আর ওদেরকে ভয় করার কিছু নেই। শুধু আল্লাহর (বিরাগভাজন হওয়াকে) ভয় করো। যাতে আমি আমার নেয়ামত পুরোপুরি দিতে পারি এবং তোমরা সৎপথে পরিচালিত হতে পারো।
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا اللَّـهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ ﴿١٤٩﴾ وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ ﴿١٥٠﴾
১৫১. এজন্যেই আমি তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে রসুল মনোনীত করে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি, যে আমার সত্যবাণী তোমাদেরকে শোনায়, তোমাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করে, কিতাব ও হিকমা শিক্ষা দেয়। আর তোমাদের সেই সত্যসমূহ জানায়, যা তোমরা জানতে না। ১৫২. অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ করো। আমিও তোমাদের স্মরণ করব। তোমরা শোকরগোজার হও, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِّنكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ ﴿١٥١﴾ فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ ﴿١٥٢﴾
১৫৩. হে বিশ্বাসীগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথেই থাকেন। ১৫৪. (হে বিশ্বাসীগণ!) যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদের মৃত বোলো না। প্রকৃতপক্ষে তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বোঝো না।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿١٥٣﴾ وَلَا تَقُولُوا لِمَن يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَـٰكِن لَّا تَشْعُرُونَ ﴿١٥٤﴾
১৫৫. নিশ্চয়ই আমি তোমাদের অনেককে ভয়, ক্ষুধা, জানমাল ও শ্রমের ফল বিনষ্ট করে অর্থাৎ বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করব। তবে এ বিপদের মধ্যে যারা ধৈর্যধারণ করে তাদের সুসংবাদ দাও। ১৫৬. ধৈর্যশীলরা বিপদে পড়লে বলে, ‘আমরা আল্লাহর। তাঁর কাছ থেকে এসেছি। তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’ ১৫৭. এদের ওপর তাদের প্রতিপালকের বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত বর্ষিত হয়। বস্তুত এরাই সৎপথে পরিচালিত।
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ ﴿١٥٥﴾ الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّـهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ ﴿١٥٦﴾ أُولَـٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ ﴿١٥٧﴾
১৫৮. নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহর (করুণার) নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তাই যে-কেউ কাবাঘরে হজ বা ওমরাহ করে, তার জন্যে এ দুটি পাহাড়ের মধ্যে সা’ঈ করলে কোনো পাপ নেই। আর যে ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকর্ম করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার উত্তম পুরস্কারদাতা, সেই সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত।
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّـهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّـهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ ﴿١٥٨﴾
১৫৯. মানবজাতির পথ প্রদর্শনের জন্যে যে উজ্জ্বল আদর্শ ও বিধিবিধান আমি নাজিল করেছি, তা কিতাবে লিপিবদ্ধ থাকার পরও যারা সে-সত্যকে গোপন করে রাখে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের লানত করেন এবং সকল বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীরাও তাদের ওপর লানত কামনা করে। ১৬০. তবে যারা তওবা করবে এবং নিজেদের কর্মপন্থা সংশোধন করবে এবং যে-সত্য তারা গোপন করেছিল তা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করবে, তাদের তওবা আমি কবুল করব। নিশ্চয়ই আমি তওবা কবুলকারী, পরমদয়ালু।
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَىٰ مِن بَعْدِ مَا بَيَّنَّاهُ لِلنَّاسِ فِي الْكِتَابِ ۙ أُولَـٰئِكَ يَلْعَنُهُمُ اللَّـهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللَّاعِنُونَ ﴿١٥٩﴾ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَبَيَّنُوا فَأُولَـٰئِكَ أَتُوبُ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنَا التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ﴿١٦٠﴾
১৬১. নিশ্চয়ই যারা (একগুঁয়েমি করে) সত্য অস্বীকার করে এবং সত্য অস্বীকারকারী হিসেবেই মারা যায়; আল্লাহ, ফেরেশতা ও সকল সত্যপন্থী মানুষ ওদের লানত করবে। ১৬২. ওরা চিরকাল লানতের বোঝা বইতে থাকবে। ওদের শাস্তি কমানোও হবে না, ওরা এ থেকে কোনো ছাড়ও পাবে না। ১৬৩. (সবসময় মনে রেখো) এক আল্লাহই তোমাদের উপাস্য। তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি দয়াময় মেহেরবান।
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَـٰئِكَ عَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللَّـهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ﴿١٦١﴾ خَالِدِينَ فِيهَا ۖ لَا يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُنظَرُونَ ﴿١٦٢﴾ وَإِلَـٰهُكُمْ إِلَـٰهٌ وَاحِدٌ ۖ لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَـٰنُ الرَّحِيمُ ﴿١٦٣﴾
১৬৪. নিশ্চয়ই মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে, রাতদিনের আবর্তনে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী বোঝাই জাহাজের সমুদ্রযাত্রায়, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত বৃষ্টিতে, যা দিয়ে তিনি রুক্ষ জমিনকে আবাদ করেন আর প্রাণের বিকাশ ঘটান, মৌসুমি বায়ুপ্রবাহে, আকাশ ও জমিনের মাঝে মেঘমালার সুনিয়ন্ত্রিত ভ্রমণচক্রে জ্ঞানীদের জন্যে অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। ১৬৫. তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ আল্লাহ ছাড়া কাল্পনিক কিছু অস্তিত্ব বা শক্তিকে তাঁর শরিক বা সমকক্ষ মনে করে। আর এই কাল্পনিক অস্তিত্বগুলোকেও আল্লাহর মতোই ভালবাসে। অবশ্য যারা সত্যিকার বিশ্বাসী, আল্লাহর প্রতি তাদের ভালবাসা অত্যন্ত সুদৃঢ়। হায়! এ সীমালঙ্ঘনকারীরা যদি (মহাবিচার দিবসে) ওদের শিরকের শাস্তির দৃশ্য এখন দেখতে পেত তাহলে ওরা বুঝত, সব ক্ষমতা ও এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানেও অত্যন্ত কঠোর।
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللَّـهُ مِنَ السَّمَاءِ مِن مَّاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ ﴿١٦٤﴾ وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّـهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّـهِ ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّـهِ ۗ وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّـهِ جَمِيعًا وَأَنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ ﴿١٦٥﴾
১৬৬. পার্থিব জীবনে চাকচিক্য ও মোহাচ্ছন্ন হয়ে অনুসারীরা যাদের অনুসরণ করেছে, (মহাবিচার দিবসে সেই) অনুসৃতরা যখন তাদের অনুসারীদের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করবে এবং অনুসারীরা যখন আসন্ন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়ে যাবে। ১৬৭. অনুসারীরা তখন বলবে, হায়! যদি একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে ওরা আজ যেভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করল, আমরাও একইভাবে ওদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতাম। আল্লাহ ওদের সকল কৃতকর্ম ওদেরকে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখাবেন যে, ওরা শুধু পরিতাপ করতে থাকবে। কিন্তু ওরা কখনো জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড থেকে বেরোনোর পথ পাবে না।
إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا مِنَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا وَرَأَوُا الْعَذَابَ وَتَقَطَّعَتْ بِهِمُ الْأَسْبَابُ ﴿١٦٦﴾ وَقَالَ الَّذِينَ اتَّبَعُوا لَوْ أَنَّ لَنَا كَرَّةً فَنَتَبَرَّأَ مِنْهُمْ كَمَا تَبَرَّءُوا مِنَّا ۗ كَذَٰلِكَ يُرِيهِمُ اللَّـهُ أَعْمَالَهُمْ حَسَرَاتٍ عَلَيْهِمْ ۖ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ ﴿١٦٧﴾
১৭০. যখন সত্য অস্বীকারকারীদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যে বিধিবিধান নাজিল করেছেন, তা অনুসরণ করো’, তখন ওরা বলে, ‘না, আমরা আমাদের বাপদাদাদের বিশ্বাস ও রীতিনীতিকেই অনুসরণ করব।’ যদি ওদের বাপদাদারা সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করে থাকে এবং সত্যপথ থেকে বঞ্চিত থাকে, তারপরও কি ওরা সে পথে চলবে? ১৭১. যারা সত্য অস্বীকার করে তাদের উপমা হচ্ছে এমন এক প্রাণীর, যাকে যত কথাই বলা হোক, সে কিছু শব্দ বা আওয়াজ ছাড়া কোনোকিছুই শোনে না, বোঝে না। (সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করায়) কার্যত ওরা বধির, বোবা ও অন্ধ হয়ে গেছে। তাই ওরা কিছুই বুঝতে পারে না।
وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنزَلَ اللَّـهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا ۗ أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ ﴿١٧٠﴾وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً ۚ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ ﴿١٧١﴾
১৭২. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যদি শুধু আমারই ইবাদত করো, তাহলে আমি রিজিক হিসেবে যে ভালো জিনিস তোমাদের দিয়েছি তা থেকে আহার করো। আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। ১৭৩. আল্লাহ তো তোমাদের জন্যে শুধু মৃত পশু, রক্ত, শূকরের মাংস হারাম করেছেন। অবশ্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে জবাই করা হয়েছে এমন সব প্রাণীর মাংস তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। কিন্তু একান্ত নিরুপায় অবস্থায় বিধান লঙ্ঘন করার কোনোরকম অভিপ্রায় ছাড়া শুধু ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্যে তা খেলে কোনো দোষ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّـهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ ﴿١٧٢﴾ إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ بِهِ لِغَيْرِ اللَّـهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٧٣﴾
১৭৪. কিতাবে যে বিধিবিধান আল্লাহ নাজিল করেছেন, যারা তা গোপন করে এবং সামান্য বৈষয়িক স্বার্থের বিনিময়ে তা বিসর্জন দেয়, তারা আসলে আগুন ভক্ষণ করে। মহাবিচার দিবসে আল্লাহ ওদের সাথে কথা বলবেন না এবং ওদের এ অপরাধ ক্ষমাও করবেন না। ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি। ১৭৫. ওরা সৎপথের বদলে ভ্রান্ত পথ আর ক্ষমা ও অনুগ্রহের বদলে কঠিন আজাব বেছে নিয়েছে। জাহান্নামের আগুনে পুড়তে ওদের কত না আগ্রহ! ১৭৬. আল্লাহ সত্যবিধানসহ কিতাব নাজিল করেছেন। কিন্তু ওরা নিজেদের চিন্তাভাবনা ও খেয়ালকে স্রষ্টার বিধানের ওপর স্থান দিয়েছে। তাই ওরা সত্য থেকে দূরে বিভ্রান্তির অতল গহ্বরে ডুবে গেছে।
إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنزَلَ اللَّـهُ مِنَ الْكِتَابِ وَيَشْتَرُونَ بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۙ أُولَـٰئِكَ مَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ إِلَّا النَّارَ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ اللَّـهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٤﴾ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ وَالْعَذَابَ بِالْمَغْفِرَةِ ۚ فَمَا أَصْبَرَهُمْ عَلَى النَّارِ ﴿١٧٥﴾ذَٰلِكَ بِأَنَّ اللَّـهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِي الْكِتَابِ لَفِي شِقَاقٍ بَعِيدٍ ﴿١٧٦﴾
১৭৭. পূর্ব বা পশ্চিমমুখী হওয়ার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই। পুণ্য রয়েছে (এক) আল্লাহ, আখেরাত, ফেরেশতা, সকল কিতাব ও নবীদের ওপর বিশ্বাসে। (দুই) আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, অসহায়, মুসাফির ও সাহায্যপ্রার্থীকে সাহায্য এবং দাসমুক্তির জন্যে অর্থদানে। (তিন) নামাজ কায়েম ও যাকাত আদায়ের মধ্যে। (চার) ওয়াদা রক্ষায়। (পাঁচ) দুঃখকষ্ট, বালা-মুসিবত ও (সত্যের পথে যে-কোনো) দুর্যোগে ধৈর্যধারণ করায়। যারা তা করবে, তারাই প্রকৃত সত্যানুসারী ও আল্লাহ-সচেতন।
لَّيْسَ الْبِرَّ أَن تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَـٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَآتَى الْمَالَ عَلَىٰ حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَىٰ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا ۖ وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِينَ الْبَأْسِ ۗ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ ﴿١٧٧﴾
১৭৮. হে বিশ্বাসীগণ! খুনের ব্যাপারে তোমাদের জন্যে কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে। খুনি স্বাধীন ব্যক্তি হলে তার কাছ থেকে, ক্রীতদাস হলে তার কাছ থেকে, নারী হলে তার কাছ থেকে অর্থাৎ যে-ই খুনি হোক, খুনের কিসাস বা বদলা হিসেবে তাকেই হত্যা করা হবে। তবে খুনির প্রতি নিহতের ভাই বা আত্মীয়রা যদি কিছুটা সদয় হয়, তাহলে প্রচলিত ন্যায়নীতি অনুযায়ী খুনের প্রতিবিধান হওয়া উচিত। এবং নিষ্ঠা ও সততার সাথে রক্তপণ পরিশোধ করা হত্যাকারীর অবশ্য কর্তব্য। এ-তো তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দণ্ডহ্রাস ও অনুগ্রহমাত্র। এরপরও যে বাড়াবাড়ি করবে, তার জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন শাস্তি।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى ۖ الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالْأُنثَىٰ بِالْأُنثَىٰ ۚ فَمَنْ عُفِيَ لَهُ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ فَاتِّبَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ وَأَدَاءٌ إِلَيْهِ بِإِحْسَانٍ ۗ ذَٰلِكَ تَخْفِيفٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَرَحْمَةٌ ۗ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ ﴿١٧٨﴾
১৭৯. হে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ! কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে, যাতে তোমরা আইন লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকতে পারো— আল্লাহ-সচেতন থাকতে পারো।
وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٧٩﴾
১৮০. তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, তার যদি ধনসম্পত্তি থাকে, তবে মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়ের জন্যে ইনসাফ মোতাবেক অসিয়ত করাকে ফরজ করা হলো। আল্লাহ-সচেতনদের জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য। ১৮১. অসিয়ত শোনার পর কেউ যদি এতে কোনোরকম পরিবর্তন করে, তাহলে পাপের দায়ভার পরিবর্তনকারীর ওপর বর্তাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সবকিছু জানেন। ১৮২. তবে অসিয়তকারী জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে কোনো অবিচার করেছে বা কারো হক নষ্ট করেছে— এমন আশঙ্কা করে কেউ যদি বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করে দেয়, তবে তাতে দোষের কিছু নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ ﴿١٨٠﴾ فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَ مَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿١٨١﴾ فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٨٢﴾
১৮৩. হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বসূরিদের ওপর। যাতে তোমরা আল্লাহ-সচেতন থাকতে পারো। ১৮৪. রোজা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের জন্যে। কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন রোজা রাখবে। আর রোজা রাখা যাদের জন্যে খুব কষ্টকর, তাদের সামর্থ্য থাকলে ‘ফিদিয়া’ (বিনিময়) অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করবে। আর যদি কেউ আনন্দিতচিত্তে আরো বেশি সৎকর্ম (বেশি সংখ্যক অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান) করে, তবে তা তার জন্যে অতিরিক্ত কল্যাণ বয়ে আনবে। তবে রোজা রাখা তোমাদের জন্যে সবচেয়ে বেশি কল্যাণের, যদি তোমরা জানতে!
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴿١٨٣﴾ أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٤﴾
১৮৫. রমজান মাসেই কোরআন নাজিল হয়েছে। আর কোরআন হচ্ছে মানুষের জন্যে সঠিক জীবনদৃষ্টি ও সত্যপথের দিশারি এবং ন্যায়-অন্যায়, সত্য ও মিথ্যা নিরূপণের নিরঙ্কুশ মানদণ্ড। অতএব এখন থেকে যারাই এ মাস পাবে, তাদের জন্যে পুরো মাস রোজা রাখা অবশ্য কর্তব্য। তবে যদি কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকে, তবে সে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন রোজা রাখবে। আল্লাহ তোমাদের জন্যে বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি কোনো কঠোরতা আরোপ করেন নি। কারণ তিনি চান, তোমরা রোজার নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করো, সত্যপথ প্রদর্শনের জন্যে স্রষ্টার মহিমা বর্ণনা করো, যেন তোমরা শোকরগোজার হতে পারো।
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّـهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّـهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٨٥﴾
১৮৬. হে নবী! আমার বান্দারা যদি আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তখন তাদের বলো, আমি তো তাদের খুব কাছেই আছি। প্রার্থনায় আমাকে যে ডাকে, আমি তার ডাক শুনি, তার ডাকে সাড়া দেই। তাই আমাকে বিশ্বাস করা ও আমার ডাকে সাড়া দেয়া অর্থাৎ আমার দেয়া ধর্মবিধান অনুসরণ করা তাদের কর্তব্য। তাহলেই তারা সত্যপথে চলতে পারবে।
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ ﴿١٨٦﴾
১৮৭. রোজার রাতে তোমাদের জন্যে স্ত্রীসহবাস বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক আর তোমরাও তাদের পোশাক। আল্লাহ ভালো করেই জানেন যে, তোমরা নিজেদের বৈধ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করছ। তাই তিনি দয়া করে তোমাদের এই অতিরিক্ত কঠোরতা লাঘব করেছেন। এখন তোমরা স্বামী-স্ত্রী রাতে একত্রে ঘুমাও ও আনন্দিত হও। রাতের আঁধার ভেদ করে প্রভাতের শুভ্র আভা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত পানাহার করো। আর পুনরায় রাত না আসা পর্যন্ত রোজা রাখো। তবে মসজিদে এতেকাফে (অর্থাৎ সাময়িকভাবে সংসার বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রার্থনা ও ধ্যানে নিমগ্ন) থাকাকালীন স্ত্রীসহবাস করবে না। এই হচ্ছে আল্লাহর সুস্পষ্ট সীমারেখা। এভাবেই আল্লাহ তাঁর বিধিমালা সহজ সুন্দর করে বয়ান করেন, যাতে তোমরা আল্লাহ-সচেতন থাকতে পারো।
أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّـهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّـهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّـهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ ﴿١٨٧﴾
১৮৮. (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা একে অন্যের ধনসম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না। আর জেনেশুনে অন্যায়ভাবে অপরের ধনসম্পত্তির কিছু অংশ গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকাজে সংশ্লিষ্টদের প্রভাবিত কোরো না।
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِّنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿١٨٨﴾
১৮৯. তারা নতুন চাঁদ সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করে। তাদের বলো, এটা মানুষের জন্যে সময়-তারিখ নির্ধারক ও হজের সময়-নির্দেশক। পেছন দিক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে কোনো পুণ্য নেই। পুণ্য রয়েছে আল্লাহ-সচেতনতায়। তাই সামনের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করো এবং আল্লাহ-সচেতন হও, তাহলেই তোমরা সফলকাম হবে।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ ۖ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ ۗ وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَـٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿١٨٩﴾
১৯০. (হে বিশ্বাসীগণ!) কেউ তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলে তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। কিন্তু কখনো সীমালঙ্ঘন কোরো না। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের অপছন্দ করেন। ১৯১. আগ্রাসীদের যেখানে পাও সেখানে হত্যা করো। আগ্রাসীরা যেখান থেকে তোমাদের উচ্ছেদ করেছিল, তোমরাও সেখান থেকে তাদের বহিষ্কার করো। নিঃসন্দেহে অত্যাচার-উৎপীড়ন হত্যা অপেক্ষাও মারাত্মক অপরাধ। তবে মসজিদুল হারামের কাছে যুদ্ধ করবে না, যদি না সেখানে তোমরা আক্রান্ত হও। যদি আক্রান্ত হও তবে নিঃসংকোচে সেখানে তাদের হত্যা করো। সত্য অস্বীকারকারীদের এটাই হচ্ছে পরিণতি। ১৯২. কিন্তু যদি তারা (যুদ্ধ ও উৎপীড়ন থেকে) বিরত হয় তবে জেনে রাখো, আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّـهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّـهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ﴿١٩٠﴾ وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ وَأَخْرِجُوهُم مِّنْ حَيْثُ أَخْرَجُوكُمْ ۚ وَالْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ الْقَتْلِ ۚ وَلَا تُقَاتِلُوهُمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَاتِلُوكُمْ فِيهِ ۖ فَإِن قَاتَلُوكُمْ فَاقْتُلُوهُمْ ۗ كَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ ﴿١٩١﴾ فَإِنِ انتَهَوْا فَإِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٩٢﴾
১৯৩. জুলুম উৎপীড়নের অবসান ও আল্লাহর ধর্মবিধান প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করো। তবে যদি তারা (যুদ্ধ ও উৎপীড়ন থেকে) বিরত হয়, তবে তোমরাও সংযত হও। জালেম ছাড়া অন্য কারো ওপর হাত তুলবে না। ১৯৪. পবিত্র মাসই পবিত্র মাসের বিনিময়। পবিত্র মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা সব পক্ষেরই দায়িত্ব। তাই কেউ যদি পবিত্র মাসে তোমাদের ওপর আক্রমণ চালায়, তোমরাও পাল্টা আক্রমণ করবে। তবে সবসময় আল্লাহ-সচেতন থেকো। জেনে রাখো, আল্লাহ সবসময়ই সত্য-সচেতনদের সাথে থাকেন। ১৯৫. আর আল্লাহর পথে মুক্তহস্তে ব্যয় করো। (মুক্তহস্তে ব্যয় না করে) নিজের হাতে নিজের সর্বনাশ কোরো না। সৎকর্মে ক্রমাগত লেগে থাকো। কারণ আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।
وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّىٰ لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّـهِ ۖ فَإِنِ انتَهَوْا فَلَا عُدْوَانَ إِلَّا عَلَى الظَّالِمِينَ ﴿١٩٣﴾ الشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ ۚ فَمَنِ اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ ﴿١٩٤﴾ وَأَنفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّـهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ۛ وَأَحْسِنُوا ۛ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ﴿١٩٥﴾
১৯৬. তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও ওমরাহ পূর্ণ করো। কিন্তু যদি তোমরা বাধা পাও তবে সহজলভ্য কোরবানি করো। আর কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মস্তক মুণ্ডন কোরো না। কিন্তু অসুস্থতা বা মাথায় কোনো রোগের কারণে আগেই মস্তক মুণ্ডন করে ফেললে ‘ফিদিয়া’ বা প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে রোজা রাখবে, কোরবানি বা সদকা দেবে। নিরাপদ পরিস্থিতিতে কেউ হজের আগে ওমরাহ করে উপকৃত হতে চাইলে সে সহজলভ্য কোরবানি করবে। কিন্তু যদি কেউ কোরবানির কোনো পশু না পায়, তবে সে হজের সময় তিন দিন ও ঘরে ফিরে সাত দিন, এভাবে মোট ১০ দিন রোজা রাখবে। মসজিদুল হারামের কাছে পরিবার-পরিজনসহ বাস করে না এমন লোকদের জন্যে এ-নিয়ম প্রযোজ্য। অতএব হে মানুষ! আল্লাহ-সচেতন হও। (আল্লাহর ধর্মবিধান লঙ্ঘন হতে দূরে থাকো।) জেনে রাখো, আল্লাহ মন্দ কাজের শাস্তিদানে কঠোর।
وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّـهِ ۚ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۖ وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِّن رَّأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ۚ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَمَن تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ ۚ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ ۗ تِلْكَ عَشَرَةٌ كَامِلَةٌ ۗ ذَٰلِكَ لِمَن لَّمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿١٩٦﴾
১৯৭. হজের মাসসমূহ সবারই জানা। যারাই এ মাসে হজের নিয়ত করবে, তারা হজের সময় (এক) যৌনাচার, (দুই) অন্যায়, (তিন) দুর্ব্যবহার, (চার) ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকবে। আর তোমরা যে সৎকর্ম করো, আল্লাহ তা জানেন। আর যাত্রাকালে সাথে পাথেয় নিয়ে যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ-সচেতনতাই উত্তম পাথেয়। অতএব হে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ! সবসময়ই তোমরা আল্লাহ-সচেতন থেকো।
الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَّعْلُومَاتٌ ۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللَّـهُ ۗ وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَىٰ ۚ وَاتَّقُونِ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٧﴾
১৯৮. তবে হজের সময় আল্লাহর অনুগ্রহ-সম্পদ অনুসন্ধানে কোনো দোষ নেই। যখন তোমরা আরাফাত থেকে ফিরে মাশয়ারে হারাম-এ (মুজদালিফায়) থাকবে তখন আল্লাহকে সেভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন (পথের দিশা দিয়েছেন)। কারণ ইতঃপূর্বে তোমরা বিভ্রান্ত ছিলে। ১৯৯. এরপর তাওয়াফের জন্যে জনস্রোতের সাথে মিশে একাকার হয়ে সেখান থেকে ফিরে যাও যেখান থেকে সবাই ফিরে যায়। এবং (জীবনের সকল পাপের জন্যে) আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَن تَبْتَغُوا فَضْلًا مِّن رَّبِّكُمْ ۚ فَإِذَا أَفَضْتُم مِّنْ عَرَفَاتٍ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ عِندَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ ۖ وَاذْكُرُوهُ كَمَا هَدَاكُمْ وَإِن كُنتُم مِّن قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ ﴿١٩٨﴾ ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ وَاسْتَغْفِرُوا اللَّـهَ ۚ إِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿١٩٩﴾
২০০. হজের অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করার পরে আল্লাহকে এমনভাবে স্মরণ করবে, যেভাবে তোমরা তোমাদের বাপদাদাদের স্মরণ করতে। বরং আল্লাহকে তার চেয়েও আরো গভীর নিমগ্নতায় স্মরণ করো, প্রার্থনা করো। এদের মধ্যে যারা প্রার্থনা করে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! দুনিয়াতেই আমাদের সবকিছু দাও’, কার্যত এদের জন্যে আখেরাতে কিছুই পাওয়ার নেই। ২০১. আবার যারা প্রার্থনা করে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ার কল্যাণ দান করো। আখেরাতের কল্যাণ দান করো। আর আগুনের শাস্তি থেকে আমাদের রক্ষা করো।’ ২০২. এরা তাদের কর্ম অনুসারে দুনিয়া ও আখেরাত— উভয় স্থানেই ফল লাভ করবে। আল্লাহ দ্রুত যথাযথ হিসাবকারী।
فَإِذَا قَضَيْتُم مَّنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا ۗ فَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا وَمَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ﴿٢٠٠﴾ وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿٢٠١﴾ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ نَصِيبٌ مِّمَّا كَسَبُوا ۚ وَاللَّـهُ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿٢٠٢﴾
২০৩. তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করো। আর যদি কেউ ব্যস্ততার কারণে দুদিনেই ফিরে আসে তাতে কোনো দোষ নেই। আবার কেউ যদি আরো বেশি দিন থাকে তাতেও কোনো দোষ নেই, যদি এ দিনগুলোতে তারা আল্লাহ-সচেতন থাকে। অতএব তোমরা আল্লাহ-সচেতন থাকো। জেনে রাখো, শেষ পর্যন্ত তাঁর সামনেই তোমাদের সবাইকে হাজির করা হবে।
وَاذْكُرُوا اللَّـهَ فِي أَيَّامٍ مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَن تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ لِمَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ ﴿٢٠٣﴾
২০৪. (মনে রেখো) এমন মানুষ আছে, পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার আলাপচারিতা তোমাকে মোহিত করবে আর তার অন্তরের সততা প্রমাণের জন্যে বার বার সে আল্লাহকে সাক্ষী মানবে। আসলে সে বিতর্কে পটু (প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে বিভ্রান্তিকর যুক্তি প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত)। ২০৫. কিন্তু যখনই সে ক্ষমতা ও সুযোগ পায় তখনই জমিনে অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টি করে শস্য ও প্রাণিকুল ধ্বংস করে। আসলে আল্লাহ অশান্তি ও ত্রাস সৃষ্টিকারীদের অপছন্দ করেন। ২০৬. আর যখন তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহ-সচেতন হও’ তখন তার মিথ্যা অহমিকা তাকে পাপে লিপ্ত করায়। তার উপযুক্ত জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। নিঃসন্দেহে এটি একটি নিকৃষ্ট ঠিকানা!
وَمِنَ النَّاسِ مَن يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيُشْهِدُ اللَّـهَ عَلَىٰ مَا فِي قَلْبِهِ وَهُوَ أَلَدُّ الْخِصَامِ ﴿٢٠٤﴾ وَإِذَا تَوَلَّىٰ سَعَىٰ فِي الْأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا وَيُهْلِكَ الْحَرْثَ وَالنَّسْلَ ۗ وَاللَّـهُ لَا يُحِبُّ الْفَسَادَ ﴿٢٠٥﴾ وَإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللَّـهَ أَخَذَتْهُ الْعِزَّةُ بِالْإِثْمِ ۚ فَحَسْبُهُ جَهَنَّمُ ۚ وَلَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿٢٠٦﴾
২০৭. আবার এমন মানুষও রয়েছে, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে। আল্লাহ তাঁর এই বান্দাদের ব্যাপারে পরমদয়ালু।
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ ﴿٢٠٧﴾
২০৮. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পুরোপুরি আল্লাহতে সমর্পিত হও। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ২০৯. সত্য সম্পর্কে সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়ার পরও যদি তোমাদের পদস্খলন ঘটে, তবে মনে রেখো, আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ২১০. তাহলে ওরা কি এ অপেক্ষায় আছে যে, মেঘের ছায়ায় আচ্ছাদিত হয়ে আল্লাহ ফেরেশতাদের সাথে নিয়ে ওদের কাছে হাজির হবেন? আসলে ততদিনে সব বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে যাবে এবং সবকিছুই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ ﴿٢٠٨﴾ فَإِن زَلَلْتُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَتْكُمُ الْبَيِّنَاتُ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٠٩﴾ هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن يَأْتِيَهُمُ اللَّـهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالْمَلَائِكَةُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ ۚ وَإِلَى اللَّـهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ ﴿٢١٠﴾
২১১. (হে নবী!) বনি ইসরাইলকে জিজ্ঞেস করো, কত সুস্পষ্ট বাণী আমি তাদের দিয়েছি? আল্লাহর নেয়ামত (সুস্পষ্ট বাণীকে) যারা বিকৃত করে, তাদের শাস্তিদানে আল্লাহ অতিকঠোর। ২১২. সত্য অস্বীকারকারীরা পার্থিব জীবনের চাকচিক্যে খুব সহজেই মোহিত হয়। ওরা বিশ্বাসীদের এ নিয়ে প্রায়শই ঠাট্টাবিদ্রুপ করে। অথচ মহাবিচার দিবসে আল্লাহ-সচেতনরাই ওদের চেয়ে অনেক উচ্চমর্যাদায় আসীন হবে। অবশ্য আল্লাহ যাকে চান তাকে দুনিয়ায় ‘বেহিসাব’ জীবনোপকরণ দান করেন।
سَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَمْ آتَيْنَاهُم مِّنْ آيَةٍ بَيِّنَةٍ ۗ وَمَن يُبَدِّلْ نِعْمَةَ اللَّـهِ مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُ فَإِنَّ اللَّـهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴿٢١١﴾ زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا ۘ وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ وَاللَّـهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴿٢١٢﴾
২১৩. একদা সকল মানুষ একই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আস্তে আস্তে তাদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলো। তারপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীদের পাঠান। সত্যজ্ঞানসহ তাদের ওপর তিনি কিতাব নাজিল করেন, যাতে মানব সম্প্রদায় তাদের মতভেদের বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু সত্যের ব্যাপারে সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণে তাদের মতভেদ বাড়তেই থাকল। তারপর মতবিরোধসংক্রান্ত বিষয়ে আল্লাহ বিশ্বাসীদেরকে সত্যপথ দেখালেন। আল্লাহ তাকেই সত্যপথে পরিচালিত করেন, যে চায় (সত্যপথে পরিচালিত হতে)।
كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّـهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَأَنزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ ۚ وَمَا اخْتَلَفَ فِيهِ إِلَّا الَّذِينَ أُوتُوهُ مِن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۖ فَهَدَى اللَّـهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ ۗ وَاللَّـهُ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ ﴿٢١٣﴾
২১৪. তোমরা কি মনে করো, তোমরা কোনো পরীক্ষা ছাড়া এমনি এমনি জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ তোমরা তো এখনো পূর্ববর্তীদের মতো পরীক্ষার সম্মুখীন হও নি? তোমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাসীরা অভাব, কষ্ট, বিপদ, মুসিবত এবং অত্যাচার-নির্যাতনে এতটাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল যে, নবীসহ তারা আর্তনাদ করে বলেছিল, আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? জেনে রাখো, আল্লাহর সাহায্য সবসময় খুবই কাছে।
أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّـهِ ۗ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّـهِ قَرِيبٌ ﴿٢١٤﴾
২১৫. তারা তোমাকে প্রশ্ন করবে, আমরা অন্যের জন্যে কী প্রক্রিয়ায় ব্যয় করব? (হে নবী!) তুমি বলো, তোমাদের অর্থসম্পত্তি প্রথমত মা-বাবা, তারপর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবী ও মুসাফিরদের জন্যে ব্যয় করবে। তোমরা যে সৎকর্মই করো না কেন, আল্লাহ তা সবই জানেন।
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّـهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿٢١٥﴾
২১৬. (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমাদেরকে যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হতে পারে এ নির্দেশ তোমাদের অপছন্দ। আসলে তোমরা যা অপছন্দ করছ, তা-ই তোমাদের জন্যে ভালো হতে পারে আর যা পছন্দ করছ, তা হতে পারে তোমাদের জন্যে খারাপ। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা জানেন, তোমরা তা জানো না।
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّـهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢١٦﴾
২১৭. পবিত্র মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে। তাদের বলো, ‘যুদ্ধ নিশ্চয়ই একটা ভয়ংকর বিষয়। কিন্তু আল্লাহর কাছে তার চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে আল্লাহর পথে মানুষকে বাধা দেয়া, আল্লাহকে অস্বীকার করা, কাবাশরিফে ইবাদত করতে বাধা দেয়া, সেখানকার অধিবাসীদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়া। আসলে জুলুম-নিপীড়ন হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ।’ যদি ওদের পক্ষে সম্ভব হতো, তাহলে তোমরা সত্যধর্ম ত্যাগের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত ওরা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেত। কিন্তু তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি সত্যধর্ম ত্যাগের ঘোষণা দাও এবং সত্য অস্বীকারকারী হিসেবে মারা যাও, তাহলে তার সকল কর্ম নিষ্ফল হবে। জাহান্নাম হবে তার ঠিকানা। সেখানেই সে থাকবে চিরকাল। ২১৮. আর যারা সত্য বিশ্বাস করেছে, হিজরত করেছে, আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তারা সঙ্গতভাবেই আল্লাহর অনুগ্রহ প্রত্যাশা করতে পারে। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ ۖ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ ۖ وَصَدٌّ عَن سَبِيلِ اللَّـهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِندَ اللَّـهِ ۚ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ ۗ وَلَا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّىٰ يَرُدُّوكُمْ عَن دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا ۚ وَمَن يَرْتَدِدْ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَـٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ وَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢١٧﴾ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّـهِ أُولَـٰئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّـهِ ۚ وَاللَّـهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿٢١٨﴾
২১৯. লোকজন মদ ও জুয়া সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞেস করছে। বলো, ‘দুটোই গুরুতর ক্ষতিকারক। ওতে কিছু কিছু উপকারও আছে। তবে উপকারের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক অনেক বেশি।’ তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, আল্লাহর পথে কী ব্যয় করব? বলো, ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ (সবকিছুই ব্যয় করতে পারো)। এভাবেই আল্লাহ তাঁর বিধানসমূহ সুস্পষ্ট বলে দেন, যাতে তোমরা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানের জন্যেই গভীরভাবে চিন্তা করতে পারো। ২২০. তারা জিজ্ঞেস করছে, এতিমদের ব্যাপারে কী করব? বলো, ‘তাদের জন্যে সুব্যবস্থা করা উত্তম।’ আর তোমরা যদি তাদের সাথে একত্রে থাকো, তবে তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ অবশ্যই হিতকারী আর অনিষ্টকারীর মধ্যে পার্থক্য করবেন। আল্লাহ ইচ্ছে করলেই এ বিষয়ে তোমাদের ওপর কষ্টকর দায়িত্ব দিতে পারতেন। মনে রেখো, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়।
يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ ۖ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَإِثْمُهُمَا أَكْبَرُ مِن نَّفْعِهِمَا ۗ وَيَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢١٩﴾ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۗ وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْيَتَامَىٰ ۖ قُلْ إِصْلَاحٌ لَّهُمْ خَيْرٌ ۖ وَإِن تُخَالِطُوهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ ۚ وَاللَّـهُ يَعْلَمُ الْمُفْسِدَ مِنَ الْمُصْلِحِ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّـهُ لَأَعْنَتَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٢٠﴾
২২১. বিশ্বাসী না হওয়া পর্যন্ত শরিককারী নারীকে বিয়ে কোরো না। শরিককারী নারী তোমাদের মোহিত করলেও একজন বিশ্বাসী দাসী তার চেয়ে উত্তম। সত্যধর্মে বিশ্বাসী না হওয়া পর্যন্ত শরিককারী পুরুষের সাথে তোমাদের মেয়েদের বিয়ে দিও না। উচ্চবংশীয় শরিককারী পুরুষ তোমাদের মোহিত করলেও একজন বিশ্বাসী দাস তার চেয়ে ভালো। শরিককারীরা তোমাদের জাহান্নামের দিকে ডাকে। আর আল্লাহ তোমাদের অনুগ্রহ করে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। আল্লাহ মানুষের জন্যে স্বীয় বিধান স্পষ্ট করে বয়ান করেন, যাতে তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
وَلَا تَنكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُولَـٰئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَاللَّـهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ ۖ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ ﴿٢٢١﴾
২২২. লোকজন তোমাকে মহিলাদের মাসিক রজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, ‘এটা হচ্ছে অপরিচ্ছন্ন কষ্টকর অবস্থা।’ তাই মাসিককালে স্ত্রীসহবাস বর্জন করবে। পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকবে। পবিত্র হওয়ার পর তাদের সাথে আবার স্বাভাবিক শারীরিক সম্পর্কে ফিরে যাবে। যারা তওবা করে ও পবিত্র থাকে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালবাসেন।
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّـهُ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ ﴿٢٢٢﴾
২২৩. তোমাদের স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের ফলনভূমি। অতএব যখন ইচ্ছা গর্ভাধান করতে পারো। কিন্তু প্রথমে (সৎকর্ম করে) তোমাদের আত্মার তৃপ্তির উপকরণের ব্যবস্থা করো। সবসময় আল্লাহ-সচেতন থাকো। জেনে রাখো, তাঁর সামনে তোমাদের অবশ্যই হাজির হতে হবে। অতএব, হে নবী! বিশ্বাসীদের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের সুখবর দাও।
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَّكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّىٰ شِئْتُمْ ۖ وَقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّكُم مُّلَاقُوهُ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴿٢٢٣﴾
২২৪. সৎকর্ম, আল্লাহ-সচেতনতা ও মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টির কাজ থেকে বিরত থাকার জন্যে আল্লাহর নামে করা শপথকে তোমরা অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবে না। আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন। ২২৫. (পরিণতি চিন্তা না করে বা ঝোঁকের মাথায় হঠাৎ করা) এই অর্থহীন শপথের জন্যে আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দেবেন না। কিন্তু চিন্তাভাবনা করে দৃঢ় অভিপ্রায় নিয়ে কোনো শপথ করলে অবশ্যই সেজন্যে তোমরা দায়ী থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, অপরিমেয় ধৈর্যধারী।
وَلَا تَجْعَلُوا اللَّـهَ عُرْضَةً لِّأَيْمَانِكُمْ أَن تَبَرُّوا وَتَتَّقُوا وَتُصْلِحُوا بَيْنَ النَّاسِ ۗ وَاللَّـهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٢٤﴾ لَّا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّـهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَـٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ ۗ وَاللَّـهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿٢٢٥﴾
২২৬. যারা স্ত্রীর সাথে সহবাস না করার শপথ করে, তাদের জন্যে চার মাসের ছাড় রয়েছে। এর মধ্যে যদি তারা স্ত্রীর কাছে ফিরে যায়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু। ২২৭. আর যদি তারা তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ ۖ فَإِن فَاءُوا فَإِنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴿٢٢٦﴾ وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّـهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٢٧﴾
২২৮. তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী পুনরায় বিয়ের জন্যে তিন রজঃস্রাবকাল অপেক্ষা করবে। তারা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হলে তাদের গর্ভে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, তা গোপন রাখা বৈধ নয়। যদি তারা আপসে মিলে থাকতে চায়, তাহলে এ সময়ের মধ্যে স্বামীরা তাদেরকে পুনরায় স্ত্রী হিসেবে ঘরে নিয়ে যেতে পারবে। পুরুষদের ওপর এ ব্যাপারে নারীদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদেরও অধিকার আছে নারীদের ওপর। তবে এ-ক্ষেত্রে পুরুষের সুযোগ একটু বেশি। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়।
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّـهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّـهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٢٨﴾
২২৯. এ তালাক দুবার, (দ্বিতীয় বার তালাক দেয়া হলে) এরপর হয় স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখবে অথবা সদয়ভাবে বিদায় দেবে। আর স্ত্রীকে যা-কিছু দিয়েছ তা থেকে কোনোকিছু ফেরত নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ নয়। অবশ্য যদি তারা দুজনেই আশঙ্কা করে যে, তারা আল্লাহপ্রদত্ত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না এবং তোমরাও যদি মনে করো যে, এরা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না, তাহলে স্ত্রী কোনোকিছুর বিনিময়ে নিষ্কৃতি পেতে চাইলে এর মধ্যে দূষণীয় কিছু নেই। এটি আল্লাহ-নির্ধারিত সীমারেখা। তাই তোমরা এই সীমা লঙ্ঘন কোরো না। আসলে সীমালঙ্ঘনকারীরাই জালেম।
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّـهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّـهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّـهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّـهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٢٩﴾
২৩০. (দ্বিতীয় বার তালাক দেয়ার পর) স্বামী যদি স্ত্রীকে তৃতীয় বার তালাক দেয়, তবে সেই স্ত্রী তার জন্যে আর বৈধ হবে না। তবে সাবেক স্ত্রী যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে এবং তারপর সেখানেও বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তাহলে প্রথম স্বামী আবার তাকে বিয়ে করতে পারবে, যদি তারা দুজনেই মনে করে যে, তারা আল্লাহর বিধান অনুসারে জীবনযাপন করতে পারবে। আর এভাবে পুনরায় বিয়েতেও কোনো দোষ নেই। জ্ঞানীদের জন্যে আল্লাহ তাঁর বিধান সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّـهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّـهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿٢٣٠﴾
২৩১. যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তাদের ‘ইদ্দত’ পূর্ণ হওয়ার সময় আসে, তখন হয় তাদের ভালোভাবে ফিরিয়ে নাও অথবা ভালোভাবে বিদায় দাও। তাদের শুধু কষ্ট দেয়ার জন্যে আটকে রেখে সীমালঙ্ঘন কোরো না। নিজের ওপর এটি সুস্পষ্ট জুলুম। তোমরা আল্লাহর বিধানকে হাসিতামাশার বস্তু বানিও না। ভুলে যেও না তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামতকে। তিনি যে কিতাব ও হিকমা নাজিল করেছেন তার মর্যাদা রক্ষা করো। আল্লাহ-সচেতন থেকো। জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের সবকিছুরই খবর রাখেন।
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ ۚ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِّتَعْتَدُوا ۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ ۚ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّـهِ هُزُوًا ۚ وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنزَلَ عَلَيْكُم مِّنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُم بِهِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٣١﴾
২৩২. তোমরা যখন স্ত্রীদের তালাক দেয়ার কাজ সম্পন্ন করো এবং স্ত্রীরাও তাদের নির্দিষ্ট ‘ইদ্দত’ পূর্ণ করে, তখন প্রস্তাবিত স্বামীর সাথে তাদের বিয়ের ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি কোরো না, যদি তারা বৈধ পদ্ধতিতে পরস্পরকে বিয়ে করতে সম্মত হয়ে থাকে। আল্লাহ এবং শেষবিচারে বিশ্বাসীদের জন্যে এটাই সুষ্ঠু ও পবিত্র কর্মনীতি। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা জানেন, তোমরা তা জানো না।
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۗ ذَٰلِكُمْ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَأَطْهَرُ ۗ وَاللَّـهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٢﴾
২৩৩. আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পুরো দুবছর বুকের দুধ দেবে, যদি কেউ ‘মুদ্দত’ অর্থাৎ বুকের দুধপান করার সময় পূর্ণ করতে চায়। এ-ক্ষেত্রে পিতা যথারীতি খোরপোষ দেবে। তবে কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্বভার দেয়া যাবে না। কোনো জননী বা কোনো জনককে সন্তানের জন্যে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। উত্তরাধিকারীদের জন্যে একই বিধান প্রযোজ্য। যদি সন্তানের পিতামাতা পারস্পরিক সম্মতি ও পরামর্শক্রমে দুই বছরের মধ্যে দুধ ছাড়াতে চায়, তবে তাতে কোনো দোষ নেই। আর যদি তোমরা তোমাদের সন্তানকে কোনো ‘দুধ-মা’র কাছে রেখে লালন করতে চাও, তাতেও কোনো দোষ নেই, যদি তোমরা নির্ধারিত ‘প্রদেয়’ নিয়মিত দাও। আল্লাহ-সচেতন হও। জেনে রাখো, তোমরা যা করো আল্লাহ তার সম্যক-দ্রষ্টা।
وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ ۖ لِمَنْ أَرَادَ أَن يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ ۚ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَّهُ بِوَلَدِهِ ۚ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَٰلِكَ ۗ فَإِنْ أَرَادَا فِصَالًا عَن تَرَاضٍ مِّنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا ۗ وَإِنْ أَرَدتُّمْ أَن تَسْتَرْضِعُوا أَوْلَادَكُمْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِذَا سَلَّمْتُم مَّا آتَيْتُم بِالْمَعْرُوفِ ۗ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٣٣﴾
২৩৪. স্বামী মারা গেলে স্ত্রী চার মাস ১০ দিন ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর তারা বিধিমতো বিয়ে করলে কোনো পাপ হবে না। তোমরা যা করো আল্লাহ সে-বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। ২৩৫. ইদ্দত পালনকালে এই বিধবাদের আকারে-ইঙ্গিতে বিয়ের প্রস্তাব করলে বা মনে মনে বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করলে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা তাদের সম্পর্কে অবশ্যই আলোচনা করবে। কিন্তু প্রচলিত বিধিমতো কথাবার্তা ছাড়া গোপনে তাদের সাথে কোনো অঙ্গীকার বা চুক্তি বা বাগদান কোরো না। আর ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে সম্পন্ন করার সংকল্প কোরো না। তোমাদের মনে কী আছে, আল্লাহ তা জানেন। তাই আল্লাহ-সচেতন হও। জেনে রাখো, আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরমসহনশীল।
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۗ وَاللَّـهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٢٣٤﴾ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُم بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنتُمْ فِي أَنفُسِكُمْ ۚ عَلِمَ اللَّـهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَـٰكِن لَّا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَن تَقُولُوا قَوْلًا مَّعْرُوفًا ۚ وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّىٰ يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ ﴿٢٣٥﴾
২৩৬. স্ত্রীদের স্পর্শ করার বা দেনমোহর ধার্য করার আগেই তাদের তালাক দেয়া কোনো অপরাধ নয়। তবে সচ্ছল হও বা গরিব, সামর্থ্যানুযায়ী নিয়মমতো খরচপত্র দেয়ার ব্যবস্থা করবে। সৎকর্মশীলদের জন্যে এটি হচ্ছে কর্তব্য। ২৩৭. দেনমোহর নির্দিষ্ট হওয়ার পর কিন্তু স্পর্শ করার আগেই যদি স্ত্রীকে তালাক দাও, তাহলে নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করতে হবে। তবে স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় তা মাফ করে দেয় অথবা স্বামী যদি স্বেচ্ছায় পুরো দেনমোহর দিয়ে দেয়, তাহলে ভিন্ন কথা। আসলে এই সমমর্মিতা আল্লাহ-সচেতনতার কাছাকাছি। তোমরা পারস্পরিক সম্পর্কে উদার হতে ভুল কোরো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তার সম্যক-দ্রষ্টা।
لَّا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِن طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ مَا لَمْ تَمَسُّوهُنَّ أَوْ تَفْرِضُوا لَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَمَتِّعُوهُنَّ عَلَى الْمُوسِعِ قَدَرُهُ وَعَلَى الْمُقْتِرِ قَدَرُهُ مَتَاعًا بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُحْسِنِينَ ﴿٢٣٦﴾ وَإِن طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِن قَبْلِ أَن تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ إِلَّا أَن يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ ۚ وَأَن تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۚ وَلَا تَنسَوُا الْفَضْلَ بَيْنَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّـهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٣٧﴾
২৩৮. তোমরা নামাজে মনোযোগী হও, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাজে আল্লাহর সামনে এমন বিনয়াবনতভাবে দাঁড়াও, যেভাবে একজন অনুগত দাস দাঁড়িয়ে থাকে। ২৩৯. যদি কোনো কারণে ভয় বা ভীতি কাজ করে তবে চলন্ত অবস্থায়ই নামাজ পড়বে। আর যখন নিরাপদ বোধ করবে তখন আল্লাহকে সেই নিয়মে স্মরণ করো, যে-নিয়ম তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, যা তোমরা পূর্বে জানতে না।
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّـهِ قَانِتِينَ ﴿٢٣٨﴾ فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالًا أَوْ رُكْبَانًا ۖ فَإِذَا أَمِنتُمْ فَاذْكُرُوا اللَّـهَ كَمَا عَلَّمَكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ ﴿٢٣٩﴾
২৪০. তোমাদের মধ্যে যাদের মৃত্যু আসন্ন, তারা যেন বিধবা স্ত্রীকে ‘একবছরের ভরণপোষণের ব্যবস্থা ও ঘর থেকে বের করে না দেয়া’র অসিয়ত করে। অবশ্য স্ত্রী যদি নিজেই চলে যায় তখন নিজের জন্যে বিধিমতো সে যা-কিছুই করুক, সে ব্যাপারে তোমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়। ২৪১. তালাকপ্রাপ্তা নারীদের প্রচলিত রীতি অনুসারে ভরণপোষণ করা আল্লাহ-সচেতনদের কর্তব্য। ২৪২. এভাবেই আল্লাহ তাঁর বিধিবিধান স্পষ্ট করে বয়ান করেন, যাতে তোমরা তোমাদের সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারো।
وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لِّأَزْوَاجِهِم مَّتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ۚ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِي مَا فَعَلْنَ فِي أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعْرُوفٍ ۗ وَاللَّـهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٤٠﴾ وَلِلْمُطَلَّقَاتِ مَتَاعٌ بِالْمَعْرُوفِ ۖ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ ﴿٢٤١﴾ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ ﴿٢٤٢﴾
২৪৪. (অতএব হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে সর্বাত্মক সংগ্রাম করো। জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।
وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّـهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٤٤﴾
২৪৫. তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে ‘কর্জে হাসানা’ (অর্থাৎ উত্তম ঋণ) দেবে? আল্লাহ বহুগুণ প্রবৃদ্ধিসহ তা ফেরত দেবেন। আল্লাহই মানুষের রিজিক বা জীবনোপকরণ কমান এবং বাড়ান। তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।
مَّن ذَا الَّذِي يُقْرِضُ اللَّـهَ قَرْضًا حَسَنًا فَيُضَاعِفَهُ لَهُ أَضْعَافًا كَثِيرَةً ۚ وَاللَّـهُ يَقْبِضُ وَيَبْسُطُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ ﴿٢٤٥﴾
২৪৬. তুমি কি জানো না, মুসার পরবর্তী বনি ইসরাইলের গোত্রপতিদের কথা? তারা নিজেদের নবীকে বলেছিল, ‘আমাদের জন্যে একজন বাদশাহ নিযুক্ত করো, যেন আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করতে পারি।’ সে বলল, ‘লড়াইয়ের আদেশ দেয়া হলে তোমরা লড়াই করতে অস্বীকৃতি জানাবে না তো?’ তারা বলল, ‘আমরা যেখানে সন্তানসন্ততিসহ জন্মভূমি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছি, সেখানে কেন আমরা আল্লাহর পথে লড়ব না?’ কিন্তু কার্যত যখন তাদের লড়াই করার নির্দেশ দেয়া হলো, তখন মুষ্টিমেয় কয়েকজন ছাড়া সকলেই পালিয়ে গেল। আর আল্লাহ তাঁর আদেশ অমান্যকারী প্রত্যেককে ভালো করেই জানেন।
أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَإِ مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ مِن بَعْدِ مُوسَىٰ إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَّهُمُ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا نُّقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ ۖ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِن كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ أَلَّا تُقَاتِلُوا ۖ قَالُوا وَمَا لَنَا أَلَّا نُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِن دِيَارِنَا وَأَبْنَائِنَا ۖ فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۗ وَاللَّـهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ ﴿٢٤٦﴾
২৪৭. তাদের নবী তাদের বলেছিল, আল্লাহ তালুতকে তোমাদের বাদশাহ নিযুক্ত করেছেন। তারা বলল, আমরা রাজত্ব করার বেশি যোগ্য আর সে-তো সাধারণ, তার তো তেমন ধনসম্পত্তি নেই। সে কীভাবে আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করবে? নবী বলল, আল্লাহই তাকে মনোনীত করেছেন আর তিনি তাকে শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করেছেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রাজত্ব ও কর্তৃত্ব দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী। ২৪৮. তাদের নবী তাদের বলেছিল, আল্লাহ তাকে বাদশাহ নিযুক্ত করার নিদর্শন হচ্ছে, তোমাদের কাছে সেই তাবুত (সিন্দুক বা হৃদয়) ফিরে আসবে, যাতে পাবে অন্তরের প্রশান্তি এবং মুসা ও হারুনের বংশধরদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের ভগ্নাংশ। আর ফেরেশতারা তা বয়ে নিয়ে আসবে। যদি সত্যবিশ্বাসী হও, নিশ্চয়ই তোমাদের জন্যে এতে রয়েছে উজ্জ্বল নিদর্শন।
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ اللَّـهَ قَدْ بَعَثَ لَكُمْ طَالُوتَ مَلِكًا ۚ قَالُوا أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ الْمُلْكُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ أَحَقُّ بِالْمُلْكِ مِنْهُ وَلَمْ يُؤْتَ سَعَةً مِّنَ الْمَالِ ۚ قَالَ إِنَّ اللَّـهَ اصْطَفَاهُ عَلَيْكُمْ وَزَادَهُ بَسْطَةً فِي الْعِلْمِ وَالْجِسْمِ ۖ وَاللَّـهُ يُؤْتِي مُلْكَهُ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّـهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٤٧﴾ وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَن يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِّمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَىٰ وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلَائِكَةُ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٢٤٨﴾
২৪৯. তারপর তালুত যখন সেনাদল নিয়ে অভিযানে বের হলো, তখন সে বলল, আল্লাহ এক নদী দিয়ে তোমাদের বিশ্বাসের পরীক্ষা করবেন। যারা নদী থেকে পানি পান করবে তারা দলচ্যুত হবে আর যারা পানি পান থেকে বিরত থাকবে তারা আমার দলে থাকবে। অবশ্য যারা শুধু এক অঞ্জলি পানি পান করবে তারাও দলভুক্ত থাকবে। কিন্তু যখন তারা নদীর কাছে পৌঁছল তখন একটা ছোট দল ছাড়া সবাই আকণ্ঠ পানি পান করল। যখন তালুত ও তার বাহিনী নদী পার হলো তখন আকণ্ঠ পানি পানকারীরা বলল, ‘জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো শক্তি আজ আর আমাদের নেই।’ কিন্তু যারা বিশ্বাস করত যে, একদিন তাদেরকে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে, তারা বলল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে একটি ছোট দল একটি বড় দলের ওপর জয়ী হয়েছে।’ নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে রয়েছেন।
فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّـهَ مُبْتَلِيكُم بِنَهَرٍ فَمَن شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَن لَّمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلَّا مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ ۚ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۚ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لَا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ ۚ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو اللَّـهِ كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ مَعَ الصَّابِرِينَ ﴿٢٤٩﴾
২৫০. জালুত ও তার বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার পর বিশ্বাসীরা প্রার্থনা করল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ধৈর্য দাও, আমাদের পদক্ষেপকে সুদৃঢ় করো এবং সত্য অস্বীকারকারীদের ওপর আমাদের বিজয়ী করো।’ ২৫১. আল্লাহর অনুগ্রহে তারা সত্য অস্বীকারকারীদের পরাজিত করল। দাউদ জালুতকে নিধন করল। আল্লাহ তাকে রাজত্ব ও হিকমা দান করলেন, দান করলেন বিবিধ বিষয়ের জ্ঞান। এভাবে আল্লাহ যদি মানুষের একটি দলকে অন্য দল দিয়ে প্রতিহত না করতেন, তাহলে অনাচার পৃথিবীকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দিত। কিন্তু আল্লাহ মানুষের প্রতি অতি-অনুগ্রহশীল। ২৫২. (হে নবী!) এ সবই আল্লাহর বাণী, যা তোমার প্রতি নাজিল হয়েছে সত্যের নিদর্শন হিসেবে। আর তুমি নিশ্চয়ই রসুলদের একজন।
وَلَمَّا بَرَزُوا لِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالُوا رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٥٠﴾ فَهَزَمُوهُم بِإِذْنِ اللَّـهِ وَقَتَلَ دَاوُودُ جَالُوتَ وَآتَاهُ اللَّـهُ الْمُلْكَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهُ مِمَّا يَشَاءُ ۗ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّـهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّفَسَدَتِ الْأَرْضُ وَلَـٰكِنَّ اللَّـهَ ذُو فَضْلٍ عَلَى الْعَالَمِينَ ﴿٢٥١﴾ تِلْكَ آيَاتُ اللَّـهِ نَتْلُوهَا عَلَيْكَ بِالْحَقِّ ۚ وَإِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ ﴿٢٥٢﴾
২৫৩. এই রসুলদের মধ্যে কাউকে কাউকে আমি বেশি মর্যাদা দান করেছি। কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন, কাউকে উচ্চসম্মান দেয়া হয়েছে। মরিয়মপুত্র ঈসাকে সত্যের উজ্জ্বল সাক্ষ্যসমূহ প্রদান করেছি এবং ‘পবিত্র আত্মা’ দ্বারা সাহায্য করেছি। সত্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখার পরও এ রসুলের অনুসারীরা পরবর্তীকালে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ ও লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। কেউ বিশ্বাস করেছে আর কেউ সত্য অস্বীকারের অন্ধকার পথে চলে গেছে। আল্লাহ চাইলে তারা পরস্পর মতবিরোধ ও লড়াই থেকে বিরত থাকত। [কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করে মতবিরোধ থেকে কাউকে বিরত রাখা আল্লাহর নিয়ম নয়।] অবশ্যই আল্লাহ যে-কোনো কিছু করার ব্যাপারে স্বাধীন।
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ ۘ مِّنْهُم مَّن كَلَّمَ اللَّـهُ ۖ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَاتٍ ۚ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ ۗ وَلَوْ شَاءَ اللَّـهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِن بَعْدِهِم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَـٰكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُم مَّنْ آمَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّـهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَـٰكِنَّ اللَّـهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ ﴿٢٥٣﴾
২৫৪. হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করো সেদিন আসার আগেই, যেদিন কোনো লেনদেন, বন্ধুত্ব বা সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না। আসলে সত্য অস্বীকারকারীরাই প্রকৃত জালেম।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَاعَةٌ ۗ وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ ﴿٢٥٤﴾
২৫৬. ধর্মে কোনো জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত পথ হতে আলোর পথ এখন সুস্পষ্ট। তাই (অপশক্তির আকর্ষণকে প্রত্যাখ্যান করে) যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে এক চিরস্থায়ী নিশ্চিত আশ্রয় লাভ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন। ২৫৭. আল্লাহ বিশ্বাসীদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান। আর যারা সত্য অস্বীকার করে তাদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে অপশক্তি। এ অপশক্তি ওদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়। ওরাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে থাকবে চিরকাল।
لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ ۖ قَد تَّبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ ۚ فَمَن يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِن بِاللَّـهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ لَا انفِصَامَ لَهَا ۗ وَاللَّـهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٥٦﴾ اللَّـهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ۖ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ ۗ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٥٧﴾
২৫৮. তুমি কি ঐ ব্যক্তির কথা ভেবে দেখ নি? আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন, শুধু সে কারণেই সে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালককে নিয়ে বিতর্ক করার সাহস পেয়েছিল। যখন ইব্রাহিম বলল, ‘আমার প্রতিপালক তিনিই, যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান।’ সে বলল, ‘আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।’ ইব্রাহিম বলল, ‘তা-ই যদি সত্য হয়, তবে আল্লাহ তো সূর্যকে উদিত করেন পূর্বদিক থেকে, তুমি সূর্যকে পশ্চিমদিক থেকে উদিত করো।’ তখন নমরুদ হতভম্ব হয়ে গেল। আল্লাহ জালেমকে কখনো সৎপথ দেখান না।
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِي حَاجَّ إِبْرَاهِيمَ فِي رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ اللَّـهُ الْمُلْكَ إِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ ۖ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَإِنَّ اللَّـهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ ۗ وَاللَّـهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ﴿٢٥٨﴾
২৫৯. অথবা সেই ব্যক্তির কথা স্মরণ করো, যে একটি শহরের ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, এ বিলুপ্ত জনপদকে আল্লাহ পুনরায় কীভাবে জীবিত করবেন? তখন আল্লাহ তার প্রাণ হরণ করলেন। সে একশত বছর মৃত পড়ে রইল। এরপর আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কতকাল এখানে পড়ে ছিলে? সে বলল, একদিন বা তার চেয়ে কিছু কম সময়। আল্লাহ বললেন, ‘একশত বছর এভাবে ছিলে। তোমার খাদ্য ও পানীয়ের দিকে তাকাও, একই অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে গাধাটার দিকে তাকাও, হাড়গোড় ছাড়া কিছু নেই। এসব এজন্যে করেছি যে, তোমাকে আমি মানবজাতির জন্যে দৃষ্টান্তে পরিণত করব। এবার দেখতে থাকো, এই হাড়গোড় কীভাবে আমি মাংস ও ত্বক দিয়ে ঢেকে দেই।’ যখন সত্য তার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠল তখন সে বলে উঠল, ‘আমি জানি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’
أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَىٰ قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَىٰ عُرُوشِهَا قَالَ أَنَّىٰ يُحْيِي هَـٰذِهِ اللَّـهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۖ فَأَمَاتَهُ اللَّـهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ ۖ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ۖ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ ۖ قَالَ بَل لَّبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانظُرْ إِلَىٰ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهْ ۖ وَانظُرْ إِلَىٰ حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً لِّلنَّاسِ ۖ وَانظُرْ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا ۚ فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّـهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٥٩﴾
২৬০. যখন ইব্রাহিম বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখাও তুমি কীভাবে মৃতকে জীবিত করো।’ তিনি বললেন, ‘তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না?’ সে বলল, ‘অবশ্যই বিশ্বাস করি। শুধু আমার মনের সান্ত্বনার জন্যে।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে চারটা পাখি ধরে ওদের বশ করো। তারপর ওদের টুকরো টুকরো করে একেক অংশ একেক পাহাড়ে রেখে এসো। এবার ওগুলোকে ডাক দাও। পাখিগুলো দৌড়ে তোমার কাছে চলে আসবে।’ জেনে রাখো, আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَىٰ ۖ قَالَ أَوَلَمْ تُؤْمِن ۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَـٰكِن لِّيَطْمَئِنَّ قَلْبِي ۖ قَالَ فَخُذْ أَرْبَعَةً مِّنَ الطَّيْرِ فَصُرْهُنَّ إِلَيْكَ ثُمَّ اجْعَلْ عَلَىٰ كُلِّ جَبَلٍ مِّنْهُنَّ جُزْءًا ثُمَّ ادْعُهُنَّ يَأْتِينَكَ سَعْيًا ۚ وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿٢٦٠﴾
২৬১. যারা নিজেদের ধনসম্পত্তি আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের এই সৎদান এমন একটি শস্যবীজ, যাতে উৎপন্ন হয় সাতটি শিষ আর প্রতিটি শিষে থাকে শত শস্যদানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণ প্রবৃদ্ধি দান করেন। আল্লাহ অনন্ত প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
مَّثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنبُلَةٍ مِّائَةُ حَبَّةٍ ۗ وَاللَّـهُ يُضَاعِفُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّـهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٦١﴾
২৬২. দানের কথা প্রচার না করে যারা আল্লাহর পথে ধনসম্পত্তি ব্যয় করে এবং গ্রহীতাকে কোনো কষ্ট দেয় না, তাদের পুরস্কার প্রতিপালকের কাছে জমা থাকবে। তাদের কোনো ভয় থাকবে না। তারা দুঃখিতও হবে না। ২৬৩. দান করে খোঁটা দিয়ে কষ্ট দেয়ার চেয়ে শুধু মিষ্টি কথা বলা বা সমবেদনা প্রকাশ করা অনেক ভালো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, পরমসহনশীল।
الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّـهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى ۙ لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٦٢﴾ قَوْلٌ مَّعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِّن صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى ۗ وَاللَّـهُ غَنِيٌّ حَلِيمٌ ﴿٢٦٣﴾
২৬৪. হে বিশ্বাসীগণ! দানের কথা প্রচার করে ও গ্রহীতাকে কষ্ট দিয়ে বা খোঁটা দিয়ে তোমাদের দানকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নিষ্ফল কোরো না, যে আত্মপ্রচারের জন্যে দান করে এবং আল্লাহ ও আখেরাতে অবিশ্বাসী। এ দানের উপমা হচ্ছে : মাটির আস্তর জমা একটি মসৃণ পাথরের চাতাল। প্রবল বৃষ্টি হলো। চাতালের ওপর থেকে সব মাটি ধুয়ে চলে গেল। তাদের উপার্জন তাদের কোনো উপকারে এলো না। সত্য অস্বীকারকারীদের আল্লাহ সৎপথ দেখান না।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُم بِالْمَنِّ وَالْأَذَىٰ كَالَّذِي يُنفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّـهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا ۖ لَّا يَقْدِرُونَ عَلَىٰ شَيْءٍ مِّمَّا كَسَبُوا ۗ وَاللَّـهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ ﴿٢٦٤﴾
২৬৫. অপরদিকে যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আন্তরিকতার সাথে দান করে, তাদের উপমা হচ্ছে : উঁচু জায়গায় এমন একটি বাগান, যেখানে মুষলধারে বৃষ্টি হলে দ্বিগুণ ফল উৎপন্ন হয় আর হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টিও বাগানটিকে ফুলে-ফলে সুশোভিত রাখার জন্যে যথেষ্ট। তোমরা যা করো, আল্লাহ তার সম্যক-দ্রষ্টা।
وَمَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّـهِ وَتَثْبِيتًا مِّنْ أَنفُسِهِمْ كَمَثَلِ جَنَّةٍ بِرَبْوَةٍ أَصَابَهَا وَابِلٌ فَآتَتْ أُكُلَهَا ضِعْفَيْنِ فَإِن لَّمْ يُصِبْهَا وَابِلٌ فَطَلٌّ ۗ وَاللَّـهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ ﴿٢٦٥﴾
২৬৬. তোমরা কেউ কি চাও তোমাদের এমন একটি বিশাল বাগান হবে, যা ঝর্না পরিবেষ্টিত সব ধরনের ফলমূলে সুশোভিত। তোমরা বুড়ো হবে, ছেলেমেয়েরাও হবে দুর্বল নাবালক। এমন সময় অগ্নিক্ষরা ঘূর্ণিঝড়ে বাগান পুড়ে খাক হয়ে যাক? এভাবে আল্লাহ তাঁর বিধান সুস্পষ্টভাবে বয়ান করেন, যেন তোমরা সহজেই তা অনুধাবন করতে পারো।
أَيَوَدُّ أَحَدُكُمْ أَن تَكُونَ لَهُ جَنَّةٌ مِّن نَّخِيلٍ وَأَعْنَابٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ لَهُ فِيهَا مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ وَأَصَابَهُ الْكِبَرُ وَلَهُ ذُرِّيَّةٌ ضُعَفَاءُ فَأَصَابَهَا إِعْصَارٌ فِيهِ نَارٌ فَاحْتَرَقَتْ ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّـهُ لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ ﴿٢٦٦﴾
২৬৭. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যা উপার্জন করো আর জমিন থেকে যা উৎপাদিত হয়, তা থেকে ভালো অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করো। বেছে বেছে খারাপ জিনিসগুলো দান করতে যেও না। কারণ যে-জিনিস তোমরা গ্রহণ করতে চাইবে না, তা কখনো দান করতে চাওয়া উচিত নয়। তোমাদের জানা থাকা উচিত, নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, সর্বোত্তম প্রশংসায় প্রশংসিত।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ ۖ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِآخِذِيهِ إِلَّا أَن تُغْمِضُوا فِيهِ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّـهَ غَنِيٌّ حَمِيدٌ ﴿٢٦٧﴾
২৬৮. শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় আর বখিল বা কৃপণ হতে উৎসাহ জোগায়। অপরদিকে আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।
لشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِالْفَحْشَاءِ ۖ وَاللَّـهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا ۗ وَاللَّـهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ ﴿٢٦٨﴾
২৬৯. আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিকমা বা প্রজ্ঞা দান করেন। যাকে প্রজ্ঞা দেয়া হয়, তাকে দেয়া হয় অফুরন্ত কল্যাণ। আসলে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীরাই সত্য উপদেশ গ্রহণ করে।
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا ۗ وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ ﴿٢٦٩﴾
২৭০. অন্যের জন্যে তোমরা যা-কিছু ব্যয় করো বা যা-কিছু তোমরা মানত করো, আল্লাহ সবই জানেন। (দান না করে অর্থ কুক্ষিগত করা জুলুম।) আর এই জালেমদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।
وَمَا أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍ فَإِنَّ اللَّـهَ يَعْلَمُهُ ۗ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿٢٧٠﴾
২৭১. তোমরা প্রকাশ্যে দান করলে তা-ও ভালো। আর যদি গোপনে অভাবীকে দাও, তা আরো ভালো। দানের কারণে তোমাদের অনেক পাপমোচন হবে। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন।
إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۚ وَيُكَفِّرُ عَنكُم مِّن سَيِّئَاتِكُمْ ۗ وَاللَّـهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ ﴿٢٧١﴾
২৭২. (হে নবী!) মানুষকে সত্যপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্ব তোমাকে দেয়া হয় নি। যে ইচ্ছা করে, আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন। (হে মানুষ!) যে অর্থবিত্ত তোমরা দান করো, সে দান তো তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যেই। তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করো। অতএব দানের পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদেরকে অবশ্যই দেয়া হবে। তোমাদের হক কখনো নষ্ট করা হবে না।
لَّيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ وَلَـٰكِنَّ اللَّـهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ ۗ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنفُسِكُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّـهِ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٢﴾
২৭৩. (হে বিশ্বাসীগণ! মনে রেখো) বিশেষভাবে সাহায্য পাওয়ার অধিকারী হচ্ছে সে-সব অভাবী, যারা আল্লাহর কাজে এমনভাবে ব্যস্ত যে, নিজের জীবিকা উপার্জনের চেষ্টা করতে পারে না। তারা কিছু চায় না দেখে অবিবেচকরা মনে করে, এদের কোনো অভাব নেই। এদের দিকে তাকালেই এদের ভেতরের অবস্থা বুঝতে পারবে। এরা কখনো ভিক্ষা চায় না। এদের সাহায্যে তোমরা যে অর্থবিত্ত ব্যয় করবে তা আল্লাহর কাছে গোপন থাকবে না।
لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّـهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ مِنَ التَّعَفُّفِ تَعْرِفُهُم بِسِيمَاهُمْ لَا يَسْأَلُونَ النَّاسَ إِلْحَافًا ۗ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّـهَ بِهِ عَلِيمٌ ﴿٢٧٣﴾
২৭৪. নিশ্চয়ই যারা তাদের উপার্জন থেকে রাতে বা দিনে, প্রকাশ্যে বা গোপনে, সচ্ছল বা অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, তাদের জন্যে তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় বা পেরেশানি থাকবে না।
الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٤﴾
২৭৫. যারা সুদ (রিবা) খায় তাদের অবস্থা হচ্ছে শয়তানের স্পর্শে সহজাত বিচারবুদ্ধি লোপ পাওয়া ব্যক্তির মতো। এজন্যেই তারা বলে ব্যবসা তো সুদের মতোই, অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন। যার নিকট তার প্রতিপালকের বিধান পৌঁছেছে এবং সুদ খাওয়া থেকে বিরত থেকেছে, তার অতীতের বিষয় সম্পূর্ণতই আল্লাহর এখতিয়ারে। কিন্তু যারা বিধান জানার পরও সুদ খেতে থাকবে, জাহান্নামই হবে তাদের নিবাস। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল। ২৭৬. সুদী অর্থ আল্লাহর রহমত থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত থাকে আর সৎদান তাঁর অনুগ্রহসিক্ত হয়ে বহুগুণে সমৃদ্ধ হয়। যারা অকৃতজ্ঞ এবং ক্রমাগত পাপে লিপ্ত, আল্লাহ তাদের অপছন্দ করেন।
الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا ۗ وَأَحَلَّ اللَّـهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا ۚ فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَىٰ فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّـهِ ۖ وَمَنْ عَادَ فَأُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴿٢٧٥﴾ يَمْحَقُ اللَّـهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ ۗ وَاللَّـهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ ﴿٢٧٦﴾
২৭৭. নিশ্চয়ই যারা সত্যে বিশ্বাস করে, সৎকর্ম করে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তাদের জন্যে যথাযথ পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের কোনো ভয় বা পেরেশানি থাকবে না।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٧﴾
২৭৮. হে বিশ্বাসীগণ! আল্লাহ-সচেতন থেকো। সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও, যদি সত্যি সত্যি তোমরা বিশ্বাসী হয়ে থাকো। ২৭৯. যদি তোমরা সুদ না ছাড়ো তবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা করো এবং সুদ পরিত্যাগ করো তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই প্রাপ্য হবে। তোমরা জুলুম কোরো না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না। ২৮০. যদি খাতক অভাবী হয়, তবে সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড় দাও। আর যদি ঋণ মাফ করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরো কল্যাণের, যদি তোমরা তা জানতে!
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّـهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿٢٧٨﴾ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِّنَ اللَّـهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ ﴿٢٧٩﴾ وَإِن كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَىٰ مَيْسَرَةٍ ۚ وَأَن تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ﴿٢٨٠﴾
২৮১. (হে মানুষ!) তোমরা সেই দিন সম্পর্কে সচেতন হও, যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তারপর প্রত্যেককেই তার কর্মফল পুরোপুরি প্রদান করা হবে। কারো ওপর কোনো অন্যায় করা হবে না।
وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّـهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ ﴿٢٨١﴾
২৮২. হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা যখন একে অন্যের সাথে ঋণসংক্রান্ত লেনদেন করো তখন তা লিখে রেখো। আর তোমাদের মধ্যে কোনো লেখক যেন তা সঠিকভাবে লিখে দেয়। যেহেতু আল্লাহ তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাই লেখক কখনোই লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ-সচেতন থেকে ঋণগ্রহীতা লেখার বিষয় বলে দেবে। কোনো বিষয় যেন বাদ না যায়। কিন্তু ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ বা দুর্বল হয় বা লেখার বিষয়বস্তু বলতে অক্ষম হয়, তবে যেন তার অভিভাবক ন্যায্যভাবে লেখার বিষয়বস্তু বলে দেয়। আর উভয়পক্ষের পছন্দমতো দুজন পুরুষ সাক্ষী থাকবে। দুজন পুরুষ যদি না থাকে তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারী। কারণ নারীদের মধ্যে একজন যদি ভুল করে তবে অন্যজন যেন তা মনে করিয়ে দিতে পারে। সাক্ষীদের যখনই ডাকা হোক, তারা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করবে না। ছোট হোক বা বড় হোক, ঋণ ফেরত দেয়ার সময়সহ লেনদেনের প্রতিটি খুঁটিনাটি শর্ত লিখে রাখতে কখনো বিরক্ত হবে না। যত বিস্তারিত লিখবে তত আল্লাহর কাছে এটি বেশি ন্যায্য, সাক্ষ্য হিসেবে বেশি নির্ভরযোগ্য, পরবর্তী সময়ে সংশয় ও মতবিরোধ রোধে বেশি কার্যকর হবে। তবে তোমাদের ব্যবসায় নগদ ও মালামাল আদান-প্রদানে লিখিত দলিল না রাখলেও কোনো দোষ নেই। অবশ্য যে-কোনো লেনদেন ও বেচাকেনায় সাক্ষী রেখো। লেখক ও সাক্ষী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখো। যদি এদের ক্ষতিগ্রস্ত করো তবে তা হবে অন্যায়। সবসময় আল্লাহ-সচেতন থেকো। কারণ আল্লাহই তোমাদের কল্যাণের সঠিক কর্মনীতি শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি সব বিষয়ে সর্বোচ্চ জ্ঞানের অধিকারী।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنتُم بِدَيْنٍ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى فَاكْتُبُوهُ ۚ وَلْيَكْتُب بَّيْنَكُمْ كَاتِبٌ بِالْعَدْلِ ۚ وَلَا يَأْبَ كَاتِبٌ أَن يَكْتُبَ كَمَا عَلَّمَهُ اللَّـهُ ۚ فَلْيَكْتُبْ وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ وَلْيَتَّقِ اللَّـهَ رَبَّهُ وَلَا يَبْخَسْ مِنْهُ شَيْئًا ۚ فَإِن كَانَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ سَفِيهًا أَوْ ضَعِيفًا أَوْ لَا يَسْتَطِيعُ أَن يُمِلَّ هُوَ فَلْيُمْلِلْ وَلِيُّهُ بِالْعَدْلِ ۚ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِن رِّجَالِكُمْ ۖ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَن تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَىٰ ۚ وَلَا يَأْبَ الشُّهَدَاءُ إِذَا مَا دُعُوا ۚ وَلَا تَسْأَمُوا أَن تَكْتُبُوهُ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا إِلَىٰ أَجَلِهِ ۚ ذَٰلِكُمْ أَقْسَطُ عِندَ اللَّـهِ وَأَقْوَمُ لِلشَّهَادَةِ وَأَدْنَىٰ أَلَّا تَرْتَابُوا ۖ إِلَّا أَن تَكُونَ تِجَارَةً حَاضِرَةً تُدِيرُونَهَا بَيْنَكُمْ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَلَّا تَكْتُبُوهَا ۗ وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ ۚ وَلَا يُضَارَّ كَاتِبٌ وَلَا شَهِيدٌ ۚ وَإِن تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ فُسُوقٌ بِكُمْ ۗ وَاتَّقُوا اللَّـهَ ۖ وَيُعَلِّمُكُمُ اللَّـهُ ۗ وَاللَّـهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ﴿٢٨٢﴾
২৮৩. যদি তোমরা সফরে থাকো এবং কোনো লেখক পাওয়া না যায়, তবে বন্ধক রাখা বৈধ। তোমরা একে অপরকে বিশ্বাস করলে, যাকে বিশ্বাস করা হয়, সে যেন আমানত ফেরত দেয়, সে যেন সবসময় আল্লাহ-সচেতন থাকে। আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। যে সাক্ষ্য গোপন করে তার অন্তর কালিমালিপ্ত হয়। তোমরা যা-ই করো না কেন আল্লাহ সবই জানেন।
وَإِن كُنتُمْ عَلَىٰ سَفَرٍ وَلَمْ تَجِدُوا كَاتِبًا فَرِهَانٌ مَّقْبُوضَةٌ ۖ فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُم بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ وَلْيَتَّقِ اللَّـهَ رَبَّهُ ۗ وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ ۚ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ ۗ وَاللَّـهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ ﴿٢٨٣﴾
২৮৪. মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমাদের মনে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ করো বা গোপন রাখো, আল্লাহ অবশ্যই সবকিছুর হিসাব নেবেন। তারপর যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন বা শাস্তি দেবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
لِّلَّـهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ وَإِن تُبْدُوا مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللَّـهُ ۖ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّـهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴿٢٨٤﴾
২৮৫. মহান প্রতিপালকের কাছ থেকে যে বিধিবিধান নাজিল হয়েছে, রসুল এবং তার সঙ্গী বিশ্বাসীরা তাতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে। আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর প্রেরিত কিতাব ও তাঁর রসুলগণকে তারা সকলেই বিশ্বাস করে। তারা বলে, আমরা আল্লাহর রসুলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আমরা তোমার নির্দেশ শুনেছি এবং মেনে নিয়েছি। হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আমরা তোমার কাছেই ফিরে যাব।
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾
২৮৬. আল্লাহ কারো ওপরই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না। ভালো ও মন্দ যে যা উপার্জন করবে, তার প্রতিফল সে-ই পাবে। (তাই হে বিশ্বাসীরা! তোমরা প্রার্থনা করো) ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের যদি ভুল বা ত্রুটি হয়, সেজন্যে আমাদের পাকড়াও কোরো না। প্রভু হে! আমাদের পূর্বসূরিদের ওপর যে-রূপ গুরুভার অর্পণ করেছিলে, আমাদের ওপর তেমন ভার চাপিয়ে দিও না। প্রভু হে! আমাদের ওপর সাধ্যাতীত কোনো দায়িত্ব দিও না। আমাদের ক্ষমা করো। দয়া করো। তুমিই আমাদের প্রভু। সত্য অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।’
لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾